সিলেট ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার মৌলভীবাজারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বিএনপিকে ঐক্যের বার্তা মুন্নার শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড দেশ সেরা বিদ্যাপীঠে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন  লাখাইর বুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির। ‎সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মী  গ্রেফতার, ব্যানার জব্দ বিএনপি নেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী রাহুল ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা‎ শান্তিগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে অংশীজনদের কর্মশালা ‎মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

‎আজমিরীগঞ্জে কৃষকের স্বপ্ন বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন‎

স্বেচ্ছাশ্রমে নদী খনন করছেন এলাকার কৃষক।



‎
‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর উপশাখা কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভয়াবহ নাব্যতাসংকট দেখা দিয়েছে। একসময় এই নদী ছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও কৃষিনির্ভর জীবনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী দুটির খননকাজ না হওয়া, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় বোরোসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের স্বপ্ন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষিজমি রক্ষায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরাতে এবার নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন জলসুখা গ্রামের কৃষকেরা। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জলসুখা ব্রিজ সংলগ্ন শুকিয়ে যাওয়া শাখা কুশিয়ারা নদীর একটি অংশে খাল খনন করেন।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কুদাইল্যা এলাকা থেকে জলসুখা বাজার পর্যন্ত নদীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা হয়েছে যে, সেখানে শিশুরা ফুটবল খেলতে পারে। আবার নদীর কিছু অংশে সামান্য পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পাশের ধানী জমি তলিয়ে যায়। ফলে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট—এই দুই সমস্যায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
‎
‎তারা জানান, হেমন্ত মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। এতে জলসুখা, বিরাট ও নোয়াগড় গ্রামের শত শত একর বোরো জমি সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির সময় নদীর কিছু অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে দীর্ঘসময় পানি আটকে থাকে। এতে ফসল আবাদে বিলম্ব হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই জমি অনাবাদি পড়ে থাকে।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দ্রুত ও নিয়মিত খনন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
‎এলাকার কৃষকগণ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ ডা.আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন’র সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

‎আজমিরীগঞ্জে কৃষকের স্বপ্ন বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন‎

সময় ০৭:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
স্বেচ্ছাশ্রমে নদী খনন করছেন এলাকার কৃষক।



‎
‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর উপশাখা কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভয়াবহ নাব্যতাসংকট দেখা দিয়েছে। একসময় এই নদী ছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও কৃষিনির্ভর জীবনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী দুটির খননকাজ না হওয়া, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় বোরোসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের স্বপ্ন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষিজমি রক্ষায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরাতে এবার নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন জলসুখা গ্রামের কৃষকেরা। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জলসুখা ব্রিজ সংলগ্ন শুকিয়ে যাওয়া শাখা কুশিয়ারা নদীর একটি অংশে খাল খনন করেন।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কুদাইল্যা এলাকা থেকে জলসুখা বাজার পর্যন্ত নদীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা হয়েছে যে, সেখানে শিশুরা ফুটবল খেলতে পারে। আবার নদীর কিছু অংশে সামান্য পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পাশের ধানী জমি তলিয়ে যায়। ফলে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট—এই দুই সমস্যায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
‎
‎তারা জানান, হেমন্ত মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। এতে জলসুখা, বিরাট ও নোয়াগড় গ্রামের শত শত একর বোরো জমি সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির সময় নদীর কিছু অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে দীর্ঘসময় পানি আটকে থাকে। এতে ফসল আবাদে বিলম্ব হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই জমি অনাবাদি পড়ে থাকে।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দ্রুত ও নিয়মিত খনন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
‎এলাকার কৃষকগণ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ ডা.আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন’র সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।