সিলেট ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎ ‎বাডসের বৈশাখী উৎসবে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকঃ‎আলোকিত সমাজ গঠনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য জামালপুরে গ্রিন বিজনেস মডেলে ভুট্টা চাষের ফসল চাষ প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত প্রতিটি উপজেলায় হবে ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’: শিক্ষামন্ত্রী ‎ছাতকে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন,ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ।‎ সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার জুড়ীতে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত ‎কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস: এমপি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম‎ জুড়ীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার কৃষক কার্ড পেলেন ৮২১ জন কৃষক

‎আজমিরীগঞ্জে কৃষকের স্বপ্ন বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন‎

স্বেচ্ছাশ্রমে নদী খনন করছেন এলাকার কৃষক।




‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর উপশাখা কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভয়াবহ নাব্যতাসংকট দেখা দিয়েছে। একসময় এই নদী ছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও কৃষিনির্ভর জীবনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী দুটির খননকাজ না হওয়া, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় বোরোসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের স্বপ্ন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষিজমি রক্ষায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরাতে এবার নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন জলসুখা গ্রামের কৃষকেরা। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জলসুখা ব্রিজ সংলগ্ন শুকিয়ে যাওয়া শাখা কুশিয়ারা নদীর একটি অংশে খাল খনন করেন।

‎স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কুদাইল্যা এলাকা থেকে জলসুখা বাজার পর্যন্ত নদীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা হয়েছে যে, সেখানে শিশুরা ফুটবল খেলতে পারে। আবার নদীর কিছু অংশে সামান্য পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পাশের ধানী জমি তলিয়ে যায়। ফলে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট—এই দুই সমস্যায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

‎তারা জানান, হেমন্ত মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। এতে জলসুখা, বিরাট ও নোয়াগড় গ্রামের শত শত একর বোরো জমি সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির সময় নদীর কিছু অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে দীর্ঘসময় পানি আটকে থাকে। এতে ফসল আবাদে বিলম্ব হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই জমি অনাবাদি পড়ে থাকে।

‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দ্রুত ও নিয়মিত খনন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
‎এলাকার কৃষকগণ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ ডা.আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন’র সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক

‎আজমিরীগঞ্জে কৃষকের স্বপ্ন বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন‎

সময় ০৭:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
স্বেচ্ছাশ্রমে নদী খনন করছেন এলাকার কৃষক।




‎হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর উপশাখা কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ভয়াবহ নাব্যতাসংকট দেখা দিয়েছে। একসময় এই নদী ছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও কৃষিনির্ভর জীবনের অন্যতম ভরসা। কিন্তু পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী দুটির খননকাজ না হওয়া, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় বোরোসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের স্বপ্ন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষিজমি রক্ষায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরাতে এবার নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন জলসুখা গ্রামের কৃষকেরা। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জলসুখা ব্রিজ সংলগ্ন শুকিয়ে যাওয়া শাখা কুশিয়ারা নদীর একটি অংশে খাল খনন করেন।

‎স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কুদাইল্যা এলাকা থেকে জলসুখা বাজার পর্যন্ত নদীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা হয়েছে যে, সেখানে শিশুরা ফুটবল খেলতে পারে। আবার নদীর কিছু অংশে সামান্য পানি জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পাশের ধানী জমি তলিয়ে যায়। ফলে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট—এই দুই সমস্যায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

‎তারা জানান, হেমন্ত মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। এতে জলসুখা, বিরাট ও নোয়াগড় গ্রামের শত শত একর বোরো জমি সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির সময় নদীর কিছু অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে দীর্ঘসময় পানি আটকে থাকে। এতে ফসল আবাদে বিলম্ব হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই জমি অনাবাদি পড়ে থাকে।

‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দ্রুত ও নিয়মিত খনন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
‎এলাকার কৃষকগণ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ ডা.আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন’র সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।