সিলেট ০৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি–ভাড়া: আইনপুরে, নীতিমালা লঙ্ঘন‎




‎ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর আশ্রয়ন প্রকল্প–এ। প্রকল্পের একাধিক ঘরে মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা বসবাস করছেন না; বরং সেখানে অন্য লোকজন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন বলে  অভিযোগ করেন আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দারা।

‎সরকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়িত আশ্রয়ন প্রকল্পটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর বিশেষ কর্মসূচির অংশ। প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন পরিবারকে ঘর, জমি ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনো অবস্থাতেই বিক্রি, হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া যাবে না।

‎আইনপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু উপকারভোগী পরিবার বরাদ্দ পাওয়া ঘরে নিয়মিত বসবাস করছেন না। তাদের পরিবর্তে অন্য লোকজন সেখানে বসবাস করছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে,আলী হোসেন,সিপন গংরা ঘর ক্রয় করে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‎প্রকল্পের পাশের এক বাসিন্দা বলেন,যাদের নামে ঘর দেওয়া হয়েছিল তারা কেউ কেউ অন্যত্র চলে গেছে। এখন ওই ঘরগুলোতে নতুন লোকজন থাকে। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।


‎সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী—উপকারভোগী পরিবার নিজে বসবাসের জন্যই ঘরটি পাবে। ঘর বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রশাসন বরাদ্দ বাতিল করে ঘর পুনরুদ্ধার করতে পারে।
‎এছাড়া সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা আইন,১৯৭৪ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল বা ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলার সুযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের মতে, বরাদ্দের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বরাদ্দ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সরকারের বৃহৎ মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর যদি অবৈধভাবে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি–ভাড়া: আইনপুরে, নীতিমালা লঙ্ঘন‎

সময় ০৯:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬




‎ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর আশ্রয়ন প্রকল্প–এ। প্রকল্পের একাধিক ঘরে মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা বসবাস করছেন না; বরং সেখানে অন্য লোকজন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন বলে  অভিযোগ করেন আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দারা।

‎সরকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়িত আশ্রয়ন প্রকল্পটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর বিশেষ কর্মসূচির অংশ। প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন পরিবারকে ঘর, জমি ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনো অবস্থাতেই বিক্রি, হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া যাবে না।

‎আইনপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু উপকারভোগী পরিবার বরাদ্দ পাওয়া ঘরে নিয়মিত বসবাস করছেন না। তাদের পরিবর্তে অন্য লোকজন সেখানে বসবাস করছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে,আলী হোসেন,সিপন গংরা ঘর ক্রয় করে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‎প্রকল্পের পাশের এক বাসিন্দা বলেন,যাদের নামে ঘর দেওয়া হয়েছিল তারা কেউ কেউ অন্যত্র চলে গেছে। এখন ওই ঘরগুলোতে নতুন লোকজন থাকে। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।


‎সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী—উপকারভোগী পরিবার নিজে বসবাসের জন্যই ঘরটি পাবে। ঘর বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রশাসন বরাদ্দ বাতিল করে ঘর পুনরুদ্ধার করতে পারে।
‎এছাড়া সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা আইন,১৯৭৪ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল বা ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলার সুযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয়দের মতে, বরাদ্দের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বরাদ্দ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সরকারের বৃহৎ মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর যদি অবৈধভাবে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।