
চুনারুঘাট উপজেলার বিএনপি’র এক ব্যবসায়ী নেতার ভারত থেকে আনা পন্যবাহী দু’টি কমলাবর্তী ট্রাক আটকে দিলো ছাত্রদলের এক নেতা ও তার সহযোগীরা।
পরে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন এবং ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিয়ে করার অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা ছাত্রদল নেতা সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
৫ই মার্চ (বৃহস্পতিবার) চুনারুঘাট থানায় ছাত্রদল নেতা মাসুক মিয়াকে প্রধান আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন।
অভিযোগকারী আকরাম হুসেন চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,গত (সোমবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভারত থেকে প্রায় ১০ মেট্রিক টন দুই ট্রাক কমলা আমদানি করেন ঢাকায় প্রেরণের উদ্যেশে।
আমদানিকৃত কমলা গুলো বিক্রির উদ্যেশে ঢাকা রওয়ানা দেওয়ার পথে চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাক্কাবাড়ি এলাকায় বাল্লাগামী সড়কের সবুজ মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছলে ট্রাক দু’টি আটক করে ছাত্রদল নেতা মাসুক মিয়া ও তার সহযোগীরা।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের শিক্ষা, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছাত্রদল নেতা মাসুক মিয়ার সহযোগী হিসেবে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন চাঁদাবাজিতে অংশ নেয় বলে অভিযোগে প্রকাশ করেন।
এ সময় তাঁরা নিজেদের ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এবং টাকা না দিলে মালামাল নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
পরে বিএনপি নেতা নিরুপায় হয়ে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক দু’টি ছাড়িয়ে নেন তাদের হাত থেকে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তিনি তার অভিযোগে আরও বলেন,প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করে বাল্লা শুল্ক স্টেশন দিয়ে বৈধ ভাবে কমলা গুলো আমদানি করেন যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
চাঁদা দিয়ে ট্রাক দু’টি ছাড়িয়ে নেওয়ার পরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বিএনপি নেতা আকরাম হোসেনকে!
ব্যবসা করতে হলে ছাত্রদল নেতা মাসুক মিয়া ও তার সহযোগীদেরকে চাঁদা দিতে হবে অন্যথায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবেনা বলে তারা প্রকাশ্যে বলাবলি করে।
তখন তিনি পরিস্থিতির চাপে পড়ে উপস্থিত সময়ে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীদের হাত থেকে আটককৃত ট্রাক দু’টি ছাড়িয়ে নেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা মাসুক মিয়ার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয় নাই।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ আর রুমন, হবিগঞ্জ। 


















