
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের আহসান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ‘বাবু’র বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই মাস অতিবাহিত হলেও চূড়ান্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গতকাল (বুধবার) দুপুরে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি জানতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যান স্থানীয় প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা। তবে এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কর্মস্থলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিনিধি দলটি সহকারী প্রধান শিক্ষকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি ও উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক বাবুকে মাত্র ২ মাসের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সেই সময়সীমা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কমিটির এই ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পরিদর্শনে যাওয়া প্রতিনিধি দলটি জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়কের কোনো স্থান হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবশ্যই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি নেতৃত্ব তার সাথে ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী মাহমুদা শেলী,শাহানারা আক্তার,”নিজেরা করি” সংস্থার নাসরিন পারভীন ও,বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন দপ্তর সম্পাদক টাঙ্গাইল জেলা প্রেমা সরকার প্রমুখ।
সহকারী প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে উপস্থিত বক্তারা বলেন, আমরা চাই শিক্ষাঙ্গন হোক নিরাপদ। অপরাধের প্রমাণ থাকার পরও কেন তাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হ্যাপি আক্তার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি। 



















