
দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বরণ করে নিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ উপলক্ষে দুই উপজেলাজুড়ে চলছে গণসংযোগ, প্রস্তুতি সভা ও দলীয় বৈঠক। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা সৈয়দ মোঃ ফয়সলের নির্দেশনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। গ্রাম ও ওয়ার্ডভিত্তিক সভার পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, তারেক রহমানের আগমন দেশবাসীর জন্য আশাবাদের বার্তা। দীর্ঘদিন পর তার দেশে ফেরা আমাদের জন্য আবেগের বিষয়ও বটে। মাধবপুরের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাকে বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বরণ অনুষ্ঠানে মাধবপুর উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন।
মাধবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন রনি বলেন, পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিএনপিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। চুনারুঘাটের নেতাকর্মীরাও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকায় উপস্থিত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হবিগঞ্জ–৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার নেতৃত্বে বিএনপি ‘৩১ দফা’ রূপরেখার মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। আমরা সেই বার্তাই জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে—আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে হয়রানি বন্ধ করা।
দলীয় নেতারা জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মাধবপুর ও চুনারুঘাট থেকে সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ ও আইন মেনে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণ সরকার নয়ন, মাধবপুর প্রতিনিধি 



















