
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের আঙিনায় শনিবারের বিকেলটা ছিল অন্যসব দিনের চেয়ে বেশ আলাদা। নিয়মিত ব্যস্ততা, আনুষ্ঠানিকতা কিংবা দাপ্তরিক চাপের বাইরে সেদিনের পরিবেশে ছিল এক ধরনের আবেগ, ছিল বিচ্ছেদের অনুভূতি। কারণ,বিদায় নিচ্ছিলেন জেলার মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা পুলিশ সুপার এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা।
১৪ মাসের দায়িত্বে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জেলার আইন-শৃঙ্খলার অভিভাবক, সহকর্মীদের প্রেরণা এবং সাধারণ মানুষের ভরসার নাম। তাই তাঁর বিদায়ের মুহূর্তও হয়ে উঠল স্মরণীয়, বেদনামাখা অথচ গৌরবময়।
দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের কাছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতার সেই মুহূর্তের বাইরে বিকেলের বিদায় আয়োজনটিই যেন সবাইকে স্পর্শ করে গেল সবচেয়ে বেশি।
জেলা পুলিশের কার্যালয় প্রাঙ্গণে যখন চৌকস পুলিশ সদস্যরা প্যারেড লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করছিলেন, তখন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছিল সম্মান ও ভালোবাসার এক অদৃশ্য আবরণ। সহকর্মীদের চোখেমুখে তখন স্পষ্টই ধরা পড়ছিল হৃদয়ের টান। বিদায়ী এসপি একে একে সবার সাথে কুশল বিনিময় করলেন— যেন প্রতিটি হাতে অদৃশ্য বন্ধন রেখে গেলেন তিনি।

সবশেষে এলো সেই ঐতিহ্যবাহী মুহূর্ত। বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের চিরায়ত বিদায় রীতি— সুসজ্জিত ফুলে মোড়ানো বিশেষ গাড়িতে চড়ে বিদায় নেওয়া। গাড়িটি যখন ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন জেলা পুলিশের সদস্যরা ফুলে সাজানো রশি টেনে গাড়িটিকে কার্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত এগিয়ে দিচ্ছিলেন।
মুহূর্তটি ছিল আবেগে ভরপুর,প্রিয় অভিভাবককে বিদায় জানাতে এগিয়ে চলা সেই গাড়িটি যেন পুরো প্রাঙ্গণের নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলেছিল।
এর আগে মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কল্যাণ সভায় তাঁকে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা। একই মঞ্চে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়— একদিকে বিদায়ের বিষাদ, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর আনন্দ।
বদলি সূত্রে শিগগিরই এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন যোগ দিতে যাচ্ছেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায়। নতুন কর্মস্থলে তাঁর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত, আরও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মৌলভীবাজারে রেখে যাওয়া তাঁর মানবিকতা, নেতৃত্ব, কর্মস্পৃহা— সবই রয়ে যাবে মানুষের স্মৃতিতে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ আজ বিদায় জানাল এক নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা, আর জেলার মানুষ পেলেন একটি স্মরণীয় দিন— ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগের একটি পূর্ণ অধ্যায়।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে 
















