সিলেট ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক। ‎বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাইদের আহত প্রবাসীর মৃত্যু, ভাই ও ভাবি গ্রেপ্তার‎ ‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎ ‎বাডসের বৈশাখী উৎসবে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকঃ‎আলোকিত সমাজ গঠনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য জামালপুরে গ্রিন বিজনেস মডেলে ভুট্টা চাষের ফসল চাষ প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত প্রতিটি উপজেলায় হবে ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’: শিক্ষামন্ত্রী ‎ছাতকে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন,ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ।‎ সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার জুড়ীতে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

ভাবগাম্ভীর্য, নির্মোহ, বহুগুণে গুণান্বিত একজন সুপুরুষ ছিলেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

আবু সালেহ আহমদ।

ভাবগাম্ভীর্য, নির্মোহ,বহুগুণে গুণান্বিত একজন সুপুরুষ ছিলেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
ভেবেছিলাম সদ্য-প্রয়াত স্যারকে নিয়ে স্মৃতি চারণমূলক একটা লেখা উপস্থাপন করবো,না সম্ভব হচ্ছেনা,মৃত্যুর কথা বারবার ভাবিয়ে তুলছে আমাকে।
বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচং বইটি নিয়ে সর্বশেষ ফোনে কথা হয় স্যারের সাথে প্রায় ৬ মাস পূর্বে বলছিলেন,ছাপা হলে বইটি পাঠিয়ে দিও ।
ছাপা হয়েছে ঠিকই, বইটি সরাসরি নিয়ে যাব এই মানষিকতার কারণে ডাকযোগেও দিতে পারিনি। এর জন্য অনুতপ্ত লাগছে।
বইয়ে প্রকাশিত জীবনীটা হুবহু নতুন প্রজন্মের জন্য এখানে উপস্থাপন করলাম।
জন্ম-
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৮জানুয়ারি ১৯৫১ সালে (বানিয়াচং মীর মহল্লা সৈয়দ বাড়ী পিতৃক নিবাস ) সিলেট শহরে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর বাবা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক। শিক্ষা বিভাগে নানা অবস্থানে কাজ করে তিনি অবসর গ্রহনের আগ পর্যন্ত সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মা মরহুম রাবেয়া খাতুনও ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ।

তিনি সিলেট ও কুমিল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা করেন। প্রথমে দুর্গাকুমার পাঠশালা ও পড়ে সিলেট সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে ঐ স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ তিনি প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে তিনি ভর্তি হন। ১৯৭২ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি বিএ সম্মান পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এমএ পরীক্ষাতেও তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হন।

এ দুই পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য তিনি যথাক্রমে পোপ স্মারক স্বর্ণপদক ও ফজলুর রহমান স্মারক স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে কানাডার কিংস্টন শহরস্থ কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যান এবং ১৯৮১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দেশে ফিরে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ওয়ার্ডেন হিসেবেও কাজ করেন। একাডেমীক লেখালেখি এবং শিক্ষকতার বাইরেও ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সাহিত্য-নন্দনতত্ত্ব-চারুকলা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা নন্দনতত্ত্ব (বাংলা একাডেমী ১৯৮৬) বাংলাদেশে এ বিষয়ে লেখা প্রথম বই। তিনি চারুকলার উপরও অনেক বই এবং প্রবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশের চিত্রকলা নিয়ে ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা দুটি বই ২০০২ ও ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠক ও বুদ্ধ মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি চিত্র প্রদর্শনী কিউরেটও করেছেন।

২০০২ সালে ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে ও ২০০৪ সালে লাহোরে বাংলাদেশি শিল্পকলার দুটি প্রদর্শনীর তিনি কিউরেটর ছিলেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক বিখ্যাত শিল্পীসহ অসংখ্য তরুন শিল্পীর উপর পরিচিতিমূলক লেখার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের আর্ট জার্নালে তিনি বাংলাদেশের শিল্পকলা নিয়ে নিয়মিত লিখেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের আর্ট ত্রৈমাসিক যামিনী-র সম্পাদনা পরিষদের তিনি একজন সদস্য। তাছাড়া বেশ কয়েকবার তিনি ঢাকা দ্বিবার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনীর সেমিনার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ড. ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে বিতর্ক চর্চাকে পুনর্জীবিত করতে ভুমিকা রাখেন। এখনও তিনি সংগঠনটির মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইংরেজি সংসদীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর স্পিকারের ভূমিকা পালন করেন এবং সারাদেশে ইংরেজি ভাষায় বিতর্ককে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে দলের নেতৃত্ব দেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ছোট গল্পকার হিসেবে ড. ইসলাম পুনরায় পাঠকদের সামনে আসেন। ঢাকা ও কলকাতা থেকে তাঁর পাঁচটি ছোট গল্প সংকলন বের হয়েছে এবং ভিন্ন ধারার গল্পকার হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

১৯৯৬ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চ্যানেল আই ও একুশে টিভির জন্য তিনি অনেকগুলো নাটক লিখেছেন। এর বেশিরভাগই মৌলিক তবে কয়েকটি নাটক রবীন্দ্রনাথ ও একটি নাটক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর গল্পের নাট্যরূপ। তাছাড়া মঞ্চ নাটকের জন্য তিনি কয়েকটি অনুবাদ ও মৌলিক নাটকও লিখেছেন।

তাঁর ‘ভুবনের ঘাটে’ নাটকটি ২০০৪ সালের শ্রেষ্ঠ মঞ্চ নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সাম্প্রতিক বিষয়াবলীর উপর বিভিন্ন সংবাদপত্রে কলাম লিখে থাকেন এবং সেগুলো পাঠকের প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি প্রথম আলো, আজকের কাগজ ও ইত্তেফাকে কলাম লিখেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রথম সারির বাংলা ও ইংরেজি অনেক দৈনিকেও নানা বিষয়ে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমীক পরিষদের সদস্য এবং এশিয়াটিক সোসাইটি, আমেরিকান স্টাডিজ রিসার্চ সেন্টার (হায়দ্রাবাদ, ভারত)সহ অনেক লার্নেড সোসাইটির সদস্য। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের জুন মাসে সাঞ্জিদা মইনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মিসেস ইসলাম ইউনিসেফ, বাংলাদেশ এ প্রোগ্রাম কম্যুনিকেশন উপদেষ্টা হিসেবে কার্যরত। তাদের একমাত্র সন্তান শাফাক ইসলাম (জন্ম- ১৯৮০) যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনা শেষ করে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’ স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ২০০৫ সালের মে মাসে জে ডি ডিগ্রি লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৮১), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৪) স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৯৫), কাঁচ ভাঙা রাতের গল্প (১৯৯৮), অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প (২০০১) প্রেম ও প্রার্থনার গল্প (২০০৫) সুখ দু:খের গল্প (২০১১) আধখানা মানুষ (২০০৬) নিত পর্বের জীবন (২০০৮), কানাগলির মানুষেরা (২০০৯) এবং আজগুবী রাত (২০১০)।

লেখক- বহু গ্রন্থের প্রণেতা, ফোকলোর গবেষক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক।

ভাবগাম্ভীর্য, নির্মোহ, বহুগুণে গুণান্বিত একজন সুপুরুষ ছিলেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

সময় ১২:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

আবু সালেহ আহমদ।

ভাবগাম্ভীর্য, নির্মোহ,বহুগুণে গুণান্বিত একজন সুপুরুষ ছিলেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
ভেবেছিলাম সদ্য-প্রয়াত স্যারকে নিয়ে স্মৃতি চারণমূলক একটা লেখা উপস্থাপন করবো,না সম্ভব হচ্ছেনা,মৃত্যুর কথা বারবার ভাবিয়ে তুলছে আমাকে।
বাংলা সাহিত্যে বানিয়াচং বইটি নিয়ে সর্বশেষ ফোনে কথা হয় স্যারের সাথে প্রায় ৬ মাস পূর্বে বলছিলেন,ছাপা হলে বইটি পাঠিয়ে দিও ।
ছাপা হয়েছে ঠিকই, বইটি সরাসরি নিয়ে যাব এই মানষিকতার কারণে ডাকযোগেও দিতে পারিনি। এর জন্য অনুতপ্ত লাগছে।
বইয়ে প্রকাশিত জীবনীটা হুবহু নতুন প্রজন্মের জন্য এখানে উপস্থাপন করলাম।
জন্ম-
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৮জানুয়ারি ১৯৫১ সালে (বানিয়াচং মীর মহল্লা সৈয়দ বাড়ী পিতৃক নিবাস ) সিলেট শহরে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর বাবা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক। শিক্ষা বিভাগে নানা অবস্থানে কাজ করে তিনি অবসর গ্রহনের আগ পর্যন্ত সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মা মরহুম রাবেয়া খাতুনও ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ।

তিনি সিলেট ও কুমিল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা করেন। প্রথমে দুর্গাকুমার পাঠশালা ও পড়ে সিলেট সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে ঐ স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ তিনি প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে তিনি ভর্তি হন। ১৯৭২ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি বিএ সম্মান পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এমএ পরীক্ষাতেও তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হন।

এ দুই পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য তিনি যথাক্রমে পোপ স্মারক স্বর্ণপদক ও ফজলুর রহমান স্মারক স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে কানাডার কিংস্টন শহরস্থ কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যান এবং ১৯৮১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দেশে ফিরে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ওয়ার্ডেন হিসেবেও কাজ করেন। একাডেমীক লেখালেখি এবং শিক্ষকতার বাইরেও ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সাহিত্য-নন্দনতত্ত্ব-চারুকলা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা নন্দনতত্ত্ব (বাংলা একাডেমী ১৯৮৬) বাংলাদেশে এ বিষয়ে লেখা প্রথম বই। তিনি চারুকলার উপরও অনেক বই এবং প্রবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশের চিত্রকলা নিয়ে ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা দুটি বই ২০০২ ও ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠক ও বুদ্ধ মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি চিত্র প্রদর্শনী কিউরেটও করেছেন।

২০০২ সালে ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে ও ২০০৪ সালে লাহোরে বাংলাদেশি শিল্পকলার দুটি প্রদর্শনীর তিনি কিউরেটর ছিলেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক বিখ্যাত শিল্পীসহ অসংখ্য তরুন শিল্পীর উপর পরিচিতিমূলক লেখার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের আর্ট জার্নালে তিনি বাংলাদেশের শিল্পকলা নিয়ে নিয়মিত লিখেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের আর্ট ত্রৈমাসিক যামিনী-র সম্পাদনা পরিষদের তিনি একজন সদস্য। তাছাড়া বেশ কয়েকবার তিনি ঢাকা দ্বিবার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনীর সেমিনার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ড. ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে বিতর্ক চর্চাকে পুনর্জীবিত করতে ভুমিকা রাখেন। এখনও তিনি সংগঠনটির মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইংরেজি সংসদীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর স্পিকারের ভূমিকা পালন করেন এবং সারাদেশে ইংরেজি ভাষায় বিতর্ককে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে দলের নেতৃত্ব দেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ছোট গল্পকার হিসেবে ড. ইসলাম পুনরায় পাঠকদের সামনে আসেন। ঢাকা ও কলকাতা থেকে তাঁর পাঁচটি ছোট গল্প সংকলন বের হয়েছে এবং ভিন্ন ধারার গল্পকার হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

১৯৯৬ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চ্যানেল আই ও একুশে টিভির জন্য তিনি অনেকগুলো নাটক লিখেছেন। এর বেশিরভাগই মৌলিক তবে কয়েকটি নাটক রবীন্দ্রনাথ ও একটি নাটক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর গল্পের নাট্যরূপ। তাছাড়া মঞ্চ নাটকের জন্য তিনি কয়েকটি অনুবাদ ও মৌলিক নাটকও লিখেছেন।

তাঁর ‘ভুবনের ঘাটে’ নাটকটি ২০০৪ সালের শ্রেষ্ঠ মঞ্চ নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সাম্প্রতিক বিষয়াবলীর উপর বিভিন্ন সংবাদপত্রে কলাম লিখে থাকেন এবং সেগুলো পাঠকের প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি প্রথম আলো, আজকের কাগজ ও ইত্তেফাকে কলাম লিখেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রথম সারির বাংলা ও ইংরেজি অনেক দৈনিকেও নানা বিষয়ে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমীক পরিষদের সদস্য এবং এশিয়াটিক সোসাইটি, আমেরিকান স্টাডিজ রিসার্চ সেন্টার (হায়দ্রাবাদ, ভারত)সহ অনেক লার্নেড সোসাইটির সদস্য। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের জুন মাসে সাঞ্জিদা মইনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মিসেস ইসলাম ইউনিসেফ, বাংলাদেশ এ প্রোগ্রাম কম্যুনিকেশন উপদেষ্টা হিসেবে কার্যরত। তাদের একমাত্র সন্তান শাফাক ইসলাম (জন্ম- ১৯৮০) যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনা শেষ করে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’ স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ২০০৫ সালের মে মাসে জে ডি ডিগ্রি লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৮১), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৪) স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৯৫), কাঁচ ভাঙা রাতের গল্প (১৯৯৮), অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প (২০০১) প্রেম ও প্রার্থনার গল্প (২০০৫) সুখ দু:খের গল্প (২০১১) আধখানা মানুষ (২০০৬) নিত পর্বের জীবন (২০০৮), কানাগলির মানুষেরা (২০০৯) এবং আজগুবী রাত (২০১০)।

লেখক- বহু গ্রন্থের প্রণেতা, ফোকলোর গবেষক।