
পিচঢালা সড়ক। দুই পাশে গাছের সারি। এ সড়কের দুই পাশে গজিয়ে উঠেছে বুনো ঝোপঝাড়। সড়ক দুর্ঘটনারোধে স্বেচ্ছাশ্রমে সেগুলো কেটে পরিস্কার করেছেন জাতীয় সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
’নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) উপজেলা শাখার উদ্যোগে বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পানিধার-নিখোড়িছড়া ব্রীজ সংলগ্ন সড়কের দু’পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ঝোপঝাড় ও সড়কের ওপরে থাকা গাছের ডাল-পালা, ময়ল-আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের ঝুকিপূর্ণ স্থান নিখোড়িছড়া ব্রীজ সংলগ্ন সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, রোড সাইন, মাইলফলক দৃশ্যমান, সড়কের ওপরে গাছের ডাল-পালা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের ওপরে থাকা মাটি-ঘাস কর্তন করা হয়।

এসময় নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন সবুজ, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নিসচা উপদেষ্টা আব্দুর রব, নিসচা সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মাসব্যাপী কর্মসূচির সদস্য সচিব জমির উদ্দিন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা থানার এস আই শফিক উদ্দিন, পুলিশ সদস্য হামিম আহমদ, মো. হানান্ন, তরুণ সংঘের সভাপতি শামীম আহমদ, নিসচার সহ-সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নোমান, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার শাকিল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অজিত রবিদাস, মাসব্যাপী কর্মসূচির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাছুম আহমদ ছুনু, যুগ্ন সদস্য সচিব ছাদিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য জাকারিয়া আহমদ, প্রবিন্স সুচিয়াং ও সাইদ আহমেদ প্রমুখ।
আলোচনা শেষে মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বড়লেখা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন সবুজ।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন, নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা জনদুর্ভোগ নিরসনে ও সড়ক দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের যে মাসব্যাপী কর্মসূচির পরিকল্পনায় তা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। তাছাড়া নিসচা সাড়া বছরই সড়ক দুর্ঘটনারোধে ও শৃঙ্খলা প্রণয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও বিভিন্ন মানবিক কাজে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমার জানা মতে বড়লেখা উপজেলায় নিসচা’র মতো আর কোনো সংগঠন সক্রিয় আছে কি না জানা নেই। আমি সবসময় নিসচাকে সহযোগিতায় নিজেকে অব্যাহত রাখবো।
নিসচা নেতারা বলেন, আমাদের দুর্ঘটনা ও অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদের তথ্যনুযায়ী বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশে ১৮ টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। যা অত্যন্ত দুর্ঘটনা প্রবণ জায়গা। আমরা এই ঝুকিপূর্ণ ১৮ টি স্থানে আমাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান থাকবে। পাশাপাশি আমাদের মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তারা আরও বলেন, সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়ের কারণে বিশেষ করে মোড় বা টার্নিংয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না, যা পরিষ্কার করলে ঝুঁকি কমে। পথচারী ও ছোট যানবাহনের চলাচল নিরাপদ ও বাধামুক্ত হয়। তাছাড়া মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কমে এবং রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিসচা নেতারা স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেহেতু এই কাজ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কিন্তু আমরা জনদুর্ভোগ নিরসনে জনস্বার্থে এ কাজ করছি। আশকরি তারা আমাদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তাছাড়া অতি শীঘ্রই সওজ কর্মকর্তার সাথে আমরা একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা করছি। এর আগে গত বছর মৌলভীবাজার জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সাথে নিসচার একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করি এবং সড়কের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। সেই স্মারকলিপির আলোকে সড়কে কয়েকটা সাইন ও দেওয়া হলেও রোড ক্রাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো ছিলো সেগুলোর আশানুরূপ কোন কাজ হয়নি।
বড়লেখা প্রতিনিধি। 










