সিলেট ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎জাতীয় ৪ নেতার মুরাল অপসারণের দায় ইউএনও দিলেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার ওপর ‎তৌহিদী জনতার বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ‎মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উইমেন্স মডেল কলেজের ৬ শিক্ষার্থীর স্কলারশিপ: স্বপ্নজয়ের সংবর্ধনা বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, ভারতীয় নাগরিক আটক মসজিদের সামনে কুয়েতি নাগরিককে ছুরিঘাত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা খুঁজছে পুলিশ। মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ‎সিলেটে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের দায়ে ২ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা লাখাইয়ে চাচার হাতে ভাতিজা খুন। প্রতিপক্ষ পলাতক, পুলিশ মোতায়েন।‎ ‎সিলেটে অভ্র প্রকাশনীতে বিচারপতি খিজির চৌধুরী: গুণীজনদের উপস্থিতিতে প্রাঞ্জল আড্ডা

‎তৌহিদী জনতার বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত


‎নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ থেকে চলছিল আলোচনা সমালোচনা। মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়ে ছিল কথিত তৌহিদী জনতার ব্যানারে একদল লোক এবং স্থানীয় প্রশাসন। তবে সব অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে ‘লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজ’-এর আয়োজনে ৩০ তম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

‎এর আগে দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সোনাই নদীর বুকে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও নৌকার সাঁই সাঁই গতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী এই লড়াই উপভোগ করতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন গ্রামবাংলার প্রাচীন এই আনন্দ উৎসব দেখতে।

‎এবারের আসরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে আসা তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম—‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’। নৌকাগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের বাড়তি রোমাঞ্চ দেয়।
‎আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একটি পক্ষ ‘তৌহিদী জনতার ব্যানারে নৌকাবাইচটি বন্ধের দাবি জানালে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য অপ্রীতিকর সমস্ত ঘটনা এড়াতে হাজার হাজার মানুষের ভেতর সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় বিয়ানবাজার থানা পুলিশ সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনাই নদীর এই নৌকাবাইচ বিয়ানীবাজারের বহু বছরের পুরনো সংস্কৃতি। কোনো ধরনের উশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতার কারণে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এমন আয়োজন বজায় থাকলে একদিকে যেমন লোকজ সংস্কৃতি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।

‎এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের সাথে আমি এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সাহেব সমন্বয় করে এই আয়োজনকে সফল করার চেষ্টা করেছি। আসলে তৌহিদী জনতার ব্যানার ব্যাবহার করে একটা পক্ষ না বুঝে এটা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি প্রশাসনের নির্দেশে আয়োজক এবং বিরোধী দুই পক্ষের সাথে বসে এটা সমাধান করে আজকে নৌকা বাইচ যাতে হয় সেই ব্যাবস্থা করেছি। নৌকা বাইচ আয়োজন করতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে যারা ছিলেন তাদের সাথে আমাদের কোন শর্ত ছিলো না। আমরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হই যে এটা নিয়ে বিরোধিতা করা ঠিক নয়, এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা সেটা বন্ধ করা উচিত নয়।

‎বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নৌকা বাইচ বন্ধ করতে আমার কাছে সরাসরি কেউ আসেনি। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনে উনাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম বিষয়টা সমাধান করার জন্য, উনি যদি ব্যার্থ হতেন তাহলে আমরা প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করতাম। কিন্তু উনারা স্থানীয়ভাবে বসে এটা সুন্দর  সমাধান করেছেন। আজকে নদীর দুইপাশে কয়েক হাজার মানুষ উপস্তিত হয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করেছেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কয়েক জন সদস্যকে সেখানে রেখেছিলাম। কিন্তু সেখানে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মানুষ উৎসাহ নিয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন শর্ত মেনে নৌকা বাইচ হয়েছে সেটা আমি শুনিনি কিংবা আমাকে কেউ বলেনি। আসলে এখানে শর্তের কিছু নেই। এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা, এটা বাধা দিয়ে কেউ আটাকাতে পারবেনা। আয়োজকেরা আয়োজন করতে চাইলে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জাতীয় ৪ নেতার মুরাল অপসারণের দায় ইউএনও দিলেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার ওপর

‎তৌহিদী জনতার বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

সময় ১১:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬


‎নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ থেকে চলছিল আলোচনা সমালোচনা। মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়ে ছিল কথিত তৌহিদী জনতার ব্যানারে একদল লোক এবং স্থানীয় প্রশাসন। তবে সব অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে ‘লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজ’-এর আয়োজনে ৩০ তম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

‎এর আগে দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সোনাই নদীর বুকে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও নৌকার সাঁই সাঁই গতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী এই লড়াই উপভোগ করতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন গ্রামবাংলার প্রাচীন এই আনন্দ উৎসব দেখতে।

‎এবারের আসরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে আসা তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম—‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’। নৌকাগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের বাড়তি রোমাঞ্চ দেয়।
‎আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একটি পক্ষ ‘তৌহিদী জনতার ব্যানারে নৌকাবাইচটি বন্ধের দাবি জানালে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য অপ্রীতিকর সমস্ত ঘটনা এড়াতে হাজার হাজার মানুষের ভেতর সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় বিয়ানবাজার থানা পুলিশ সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনাই নদীর এই নৌকাবাইচ বিয়ানীবাজারের বহু বছরের পুরনো সংস্কৃতি। কোনো ধরনের উশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতার কারণে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এমন আয়োজন বজায় থাকলে একদিকে যেমন লোকজ সংস্কৃতি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।

‎এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের সাথে আমি এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সাহেব সমন্বয় করে এই আয়োজনকে সফল করার চেষ্টা করেছি। আসলে তৌহিদী জনতার ব্যানার ব্যাবহার করে একটা পক্ষ না বুঝে এটা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি প্রশাসনের নির্দেশে আয়োজক এবং বিরোধী দুই পক্ষের সাথে বসে এটা সমাধান করে আজকে নৌকা বাইচ যাতে হয় সেই ব্যাবস্থা করেছি। নৌকা বাইচ আয়োজন করতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে যারা ছিলেন তাদের সাথে আমাদের কোন শর্ত ছিলো না। আমরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হই যে এটা নিয়ে বিরোধিতা করা ঠিক নয়, এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা সেটা বন্ধ করা উচিত নয়।

‎বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নৌকা বাইচ বন্ধ করতে আমার কাছে সরাসরি কেউ আসেনি। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনে উনাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম বিষয়টা সমাধান করার জন্য, উনি যদি ব্যার্থ হতেন তাহলে আমরা প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করতাম। কিন্তু উনারা স্থানীয়ভাবে বসে এটা সুন্দর  সমাধান করেছেন। আজকে নদীর দুইপাশে কয়েক হাজার মানুষ উপস্তিত হয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করেছেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কয়েক জন সদস্যকে সেখানে রেখেছিলাম। কিন্তু সেখানে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মানুষ উৎসাহ নিয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন শর্ত মেনে নৌকা বাইচ হয়েছে সেটা আমি শুনিনি কিংবা আমাকে কেউ বলেনি। আসলে এখানে শর্তের কিছু নেই। এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা, এটা বাধা দিয়ে কেউ আটাকাতে পারবেনা। আয়োজকেরা আয়োজন করতে চাইলে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে।