সিলেট ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম ‎জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বড়বাজারের দোকানে দুধর্ষ চুরি: নগদ টাকা ও স্বর্ণসহ চেক বই গায়েব। থানায় অভিযোগ। ‎বিয়ানীবাজারের সামাজিক সংগঠন মুসলিম সাহিত্য পরিষদের নবগঠিত কমিটির অভিষেক সম্পন্ন‎ জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎ঢাকায় মামলা, গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ: মাধবপুরে বৃদ্ধা পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা ‎শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে যৌথ অভিযানে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্স জব্দ ‎বিয়ানীবাজারের উদীয়মান ক্যালিগ্রাফার ছরওয়ার ফৈয়াজীর একক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধন উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপি আলহাজ্ব মো.শওকতুল ইসলাম কে সংবর্ধনা ‎কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম

বাঁধ ভেঙে গ্রামে প্রবেশ করছে খোয়াই নদীর পানি

‎হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৯ জুলাইয়ের পর দেড় মাসের মাথায় একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, রোববার দুপুরে চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পানির প্রচণ্ড চাপে বাঁধের আগের মেরামতের দুর্বল অংশটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পানি ছড়িয়ে পড়ে কালীগঞ্জসহ আশপাশের ১০টিরও বেশি গ্রামে।

‎বিকেল পর্যন্ত এসব গ্রামের শত শত একর ধান ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি উঠে গেছে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে। সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সেদেশের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়া হয়। ফলে হুট করেই নদীতে পানির চাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং এই ভাঙন ধরে।

‎তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করছেন, জুলাই মাসের ভাঙনের পর মেরামতকাজে চরম অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। দুর্বলভাবে কাজ করার কারণেই এত দ্রুত আবারও নদীভাঙন ঘটল। স্থানীয় বাসিন্দা মখলিছ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, যেভাবে দায়সারা গোছের মেরামত করা হয়েছিল, তা দেখেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম ফের ভাঙবে—শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো।

‎এলাকাবাসী জানান, গতবারের ভাঙনে তিনটি স্থান দিয়ে পানি ঢুকলেও এবার এক পয়েন্ট দিয়েই পুরো নদীর পানি তীব্র বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়েও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, ওপারে ব্যারাজের কবাট বন্ধ করায় বিকেল থেকে নদীতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম

হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম

সময় ১০:৩২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
বাঁধ ভেঙে গ্রামে প্রবেশ করছে খোয়াই নদীর পানি

‎হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৯ জুলাইয়ের পর দেড় মাসের মাথায় একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, রোববার দুপুরে চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পানির প্রচণ্ড চাপে বাঁধের আগের মেরামতের দুর্বল অংশটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পানি ছড়িয়ে পড়ে কালীগঞ্জসহ আশপাশের ১০টিরও বেশি গ্রামে।

‎বিকেল পর্যন্ত এসব গ্রামের শত শত একর ধান ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি উঠে গেছে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে। সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সেদেশের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়া হয়। ফলে হুট করেই নদীতে পানির চাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং এই ভাঙন ধরে।

‎তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করছেন, জুলাই মাসের ভাঙনের পর মেরামতকাজে চরম অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। দুর্বলভাবে কাজ করার কারণেই এত দ্রুত আবারও নদীভাঙন ঘটল। স্থানীয় বাসিন্দা মখলিছ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, যেভাবে দায়সারা গোছের মেরামত করা হয়েছিল, তা দেখেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম ফের ভাঙবে—শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো।

‎এলাকাবাসী জানান, গতবারের ভাঙনে তিনটি স্থান দিয়ে পানি ঢুকলেও এবার এক পয়েন্ট দিয়েই পুরো নদীর পানি তীব্র বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়েও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, ওপারে ব্যারাজের কবাট বন্ধ করায় বিকেল থেকে নদীতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।