
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৯ জুলাইয়ের পর দেড় মাসের মাথায় একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, রোববার দুপুরে চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পানির প্রচণ্ড চাপে বাঁধের আগের মেরামতের দুর্বল অংশটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পানি ছড়িয়ে পড়ে কালীগঞ্জসহ আশপাশের ১০টিরও বেশি গ্রামে।
বিকেল পর্যন্ত এসব গ্রামের শত শত একর ধান ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি উঠে গেছে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে। সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সেদেশের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়া হয়। ফলে হুট করেই নদীতে পানির চাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং এই ভাঙন ধরে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করছেন, জুলাই মাসের ভাঙনের পর মেরামতকাজে চরম অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। দুর্বলভাবে কাজ করার কারণেই এত দ্রুত আবারও নদীভাঙন ঘটল। স্থানীয় বাসিন্দা মখলিছ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, যেভাবে দায়সারা গোছের মেরামত করা হয়েছিল, তা দেখেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম ফের ভাঙবে—শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো।
এলাকাবাসী জানান, গতবারের ভাঙনে তিনটি স্থান দিয়ে পানি ঢুকলেও এবার এক পয়েন্ট দিয়েই পুরো নদীর পানি তীব্র বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়েও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, ওপারে ব্যারাজের কবাট বন্ধ করায় বিকেল থেকে নদীতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।। 


















