সিলেট ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম ‎জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বড়বাজারের দোকানে দুধর্ষ চুরি: নগদ টাকা ও স্বর্ণসহ চেক বই গায়েব। থানায় অভিযোগ। ‎বিয়ানীবাজারের সামাজিক সংগঠন মুসলিম সাহিত্য পরিষদের নবগঠিত কমিটির অভিষেক সম্পন্ন‎ জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎ঢাকায় মামলা, গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ: মাধবপুরে বৃদ্ধা পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা ‎শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে যৌথ অভিযানে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্স জব্দ ‎বিয়ানীবাজারের উদীয়মান ক্যালিগ্রাফার ছরওয়ার ফৈয়াজীর একক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধন উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপি আলহাজ্ব মো.শওকতুল ইসলাম কে সংবর্ধনা ‎কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

জামালপুর সদরে খাল খননের অভাবে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি ১০ একর ফসলি জমি, দিশেহারা ৩০০ কৃষক


জামালপুরে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল থাকলেও আগাছা পরিষ্কার ও দীর্ঘদিন খনন না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন প্রায় ৩০০ জন কৃষক।

​আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামের ‘বড়লেটকুরে’ নামক ফসলের মাঠটি একটি বৃহৎ বিলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের বৃষ্টির পানি এই ফসলের মাঠে এসে জমে। এরপর একটি সরু খালের মাধ্যমে সেই পানি নাটাকুড়ে খালে পড়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খালটি অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, নেটকুরে ফসলের মাঠ থেকে নাটাকুড়ে খাল পর্যন্ত সংযোগকারী সরু খালটি আগাছা ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদের উদ্যোগে কিছু পরিষ্কার করা হলেও এ বছর অতিরিক্ত আবর্জনা ও পলিমাটি জমে পুরো খালটি নর্দমায় রূপ নিয়েছে।

দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় কৃষক মো. শাহজাহান ও মাজেদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই ফসলি মাঠে প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। এই জমির মালিক সবাই সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক। এই জমি থেকে উৎপাদিত ফসল দিয়েই সারা বছর আমাদের সংসার চলে। এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়েকটি গ্রামের পানি এসে আমাদের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটিও আজ পরিত্যক্ত। এমতাবস্থায় স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুর রশিদের উদ্যোগে কিছু পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সরু খালটি খনন করে আমাদের ৩০০ কৃষকের প্রাণ বাঁচান।”

স্থানীয় সমাজসেবক ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, “আমাদের গ্রামের এই ফসলের মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান, সরিষা ও পাট উৎপাদিত হয়। বিঘাপ্রতি সাধারণত ২৫ মণ ধান পাওয়া যায়, অথচ প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে এই ফসলি মাঠটি বিলে পরিণত হয়। কৃষকরা আমার কাছে অনুরোধ জানালে আমি প্রতিবছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করি। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে গেছে এবং ১০ একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে দ্রুত খালটি খনন করে কৃষকদের রক্ষা করা হয়।”

​বিশিষ্ট গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, “শাহবাজপুর ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামে ১০ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একদিকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ, অন্যদিকে খালের অভাবে এভাবে কৃষি জমি নষ্ট হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান সরকার যখন খাল খনন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, ঠিক তখন এক কিলোমিটার খাল খননের অভাবে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। আমি জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।”

​সচেতন মহল মনে করছে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কৃষকদের এই ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের লস্করপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম

জামালপুর সদরে খাল খননের অভাবে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি ১০ একর ফসলি জমি, দিশেহারা ৩০০ কৃষক

সময় ০২:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬


জামালপুরে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল থাকলেও আগাছা পরিষ্কার ও দীর্ঘদিন খনন না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন প্রায় ৩০০ জন কৃষক।

​আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামের ‘বড়লেটকুরে’ নামক ফসলের মাঠটি একটি বৃহৎ বিলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের বৃষ্টির পানি এই ফসলের মাঠে এসে জমে। এরপর একটি সরু খালের মাধ্যমে সেই পানি নাটাকুড়ে খালে পড়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খালটি অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, নেটকুরে ফসলের মাঠ থেকে নাটাকুড়ে খাল পর্যন্ত সংযোগকারী সরু খালটি আগাছা ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদের উদ্যোগে কিছু পরিষ্কার করা হলেও এ বছর অতিরিক্ত আবর্জনা ও পলিমাটি জমে পুরো খালটি নর্দমায় রূপ নিয়েছে।

দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় কৃষক মো. শাহজাহান ও মাজেদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই ফসলি মাঠে প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। এই জমির মালিক সবাই সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক। এই জমি থেকে উৎপাদিত ফসল দিয়েই সারা বছর আমাদের সংসার চলে। এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়েকটি গ্রামের পানি এসে আমাদের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটিও আজ পরিত্যক্ত। এমতাবস্থায় স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুর রশিদের উদ্যোগে কিছু পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সরু খালটি খনন করে আমাদের ৩০০ কৃষকের প্রাণ বাঁচান।”

স্থানীয় সমাজসেবক ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, “আমাদের গ্রামের এই ফসলের মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান, সরিষা ও পাট উৎপাদিত হয়। বিঘাপ্রতি সাধারণত ২৫ মণ ধান পাওয়া যায়, অথচ প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে এই ফসলি মাঠটি বিলে পরিণত হয়। কৃষকরা আমার কাছে অনুরোধ জানালে আমি প্রতিবছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করি। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে গেছে এবং ১০ একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে দ্রুত খালটি খনন করে কৃষকদের রক্ষা করা হয়।”

​বিশিষ্ট গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, “শাহবাজপুর ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামে ১০ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একদিকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ, অন্যদিকে খালের অভাবে এভাবে কৃষি জমি নষ্ট হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান সরকার যখন খাল খনন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, ঠিক তখন এক কিলোমিটার খাল খননের অভাবে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। আমি জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।”

​সচেতন মহল মনে করছে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কৃষকদের এই ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।