
সিলেটে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর মোঃ রিফাত আহমদ (১৫) নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত এজাহারনামীয় ৮ নম্বর পলাতক আসামি জুয়েল আহমেদকে (১৮) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ভিকটিম মোঃ রিফাত আহমদ চৌকিদেখী এলাকার দ্বীপ শিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের পরিচিত রাফি দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এরিনা ফুটসাল ইনডোর মাঠে ১ নম্বর বিবাদী শুয়েব আহমদের ফুটবল দলের সঙ্গে এক ম্যাচের আয়োজন করে।
উক্ত দিন বিকেল আনুমানিক ৫ টা ৩০ মিনিটে খেলা চলাকালীন একটি ‘ফাউল’ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাফি খেলা ছেড়ে তার দল নিয়ে মাঠ থেকে চলে যেতে চাইলে বিবাদীরা তাদের বিভিন্ন হুমকি দেয় এবং মাঠ ছাড়তে বাধা প্রদান করে।
পরিস্থিতি দেখে রাফি সাহায্যের জন্য তার বন্ধু রিফাতকে (নিহত) ফোনে বিষয়টি জানায়। সংবাদ পেয়ে রিফাত সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে কাজীরবাজারস্থ সেলফী ব্রিজের ওপর পৌঁছামাত্রই পূর্বে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বিবাদীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রিফাত শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এ সময় রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু সাব্বির আহমদ, আব্দুস সামি ও রবিউলকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সিলেট মেটোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৪০, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৬)। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেফতার করতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-৯।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০ টা ৪০ মিনিটের সময় র্যাব-৯ সদর কোম্পানী (সিলেট) এবং সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি জুয়েলকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী হল,জুয়েল আহমেদ (১৮) সে গোয়াইনঘাট উপজেলার, হাদারপাড় গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। সে মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর পলাতক আসামি।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















