
কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘বর্ষাপত্র’ ও ‘প্রকৃতির ছোঁয়া’ শিরোনামে দুটি দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলী। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘প্রকৃতির ছোঁয়া’ এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘বর্ষাপত্র’ শিরোনামে দেয়াল পত্রিকা দুটি প্রকাশ করে।
এ সময় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. এরশাদ হোসাইন, আফিয়া বেগম, ফণীভূষণ চন্দ, সঞ্জয় দেবনাথ, নূর ইসলাম, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, সুশান্ত কুমার বর্মন, নীলিমা রানী বৈদ্য, জয়রাজ উল্যা, আবুল কাশেম তুহিন, শিমুল মিয়া, মীরা শর্মাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিশা হক ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়মুনা আক্তার স্নেহা দেয়াল পত্রিকা দুটির সম্পাদকীয় পাঠ করেন।
প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলী বলেন, ‘বর্ষা আমাদের প্রিয় ঋতু। এই বর্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করেছে। এ ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মনোজগতে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের মেধা ও মনন বিকশিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস এবং বিভিন্ন ঋতুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ২০১০ সালে ব্র্যাকের মেন্টরিং কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে প্রতি মাসে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করত।
এবারও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে দেয়াল পত্রিকা দুটি। এতে ছড়া, কবিতা, কৌতুক, রম্যরচনা ও অণুগল্পসহ নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা স্থান পেয়েছে। এসব লেখা শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন, দেয়াল পত্রিকার মতো সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে নিজেদের ভাবনা ও প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।
সঞ্জয় দেবনাথ, কুলাউড়া থেকে। 












