
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। বনগাঁও, পাহাড়পুর, কুমারকাদা, দুর্গাপুর ও ইসলামপুরসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এতে ভোগান্তির শিকার হন।
স্থানীয়রা জানান, বনগাঁও, ইসলামপুর, পাহাড়পুর এবং দীঘলবাক ইউনিয়নের দুর্গাপুর ও হোসেনপুরসহ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ সময় বিকল্প সড়কটিও বড় গর্ত ও কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে পারকুল গ্রামের কাছে সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের পেছনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ইটসলিং সড়কে খুঁটি স্থাপনসহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে রিকশা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান তারা।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কটিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পেছনে একজন জনপ্রতিনিধির নেপথ্য ভূমিকা থাকতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়েও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত যোগাযোগব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজের প্রয়োজনে সাময়িকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখতে হলে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সর্বশেষে বর্তমানে সড়কটি উন্মুক্ত রয়েছে।
সামিটের দায়িত্বশীলরা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন, সড়কটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়নকাজ চললেও জনসাধারণের চলাচল যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির বরাদ্দ, নির্মাণকাজ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি প্রয়োজন হলে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জুয়েল আহমদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: 


















