সিলেট ১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
সিলেটের মুরাদপুরে শব্দদূষণ ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ জনকে জরিমানা‎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৫ শিক্ষকের বিপরীতে ৫ম শ্রেণীতে উপস্থিত ১ জন ‎ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আট যুবক নিখোঁজ, পরিবারে আহাজারি নবীগঞ্জে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বিয়ানীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পৃথক মামলার ৫ আসামী গ্রেফতার নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে সুফিয়া-মতিন মহিলা কলেজ- ডা. জীবন এমপি যুক্তরাজ্যে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ: গোলাপগঞ্জে র‍্যাবের জালে প্রতারক চক্রের মূলহোতা কয়েছ সিলেটে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: ১.৭ কেজি গাঁজা ও ১৭ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ‎গোয়াইনঘাটে মাধ্যমিক স্কুল ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘পুসাগ গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬’ উদ্বোধিত

‎ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আট যুবক নিখোঁজ, পরিবারে আহাজারি

অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের যুবকের (ফাইল ছবি)


‎লিবিয়া থেকে অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের আট যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

‎হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের বহু তরুণ উন্নত জীবন ও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের মাধ্যমে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ পড়ছেন মানবপাচারকারী ও মাফিয়া চক্রের হাতে, কেউ ফিরছেন লাশ হয়ে,আবার কেউ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে।

‎পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের এসব যুবক ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। পরে গত ৩ আগস্ট রাতে তারা নৌকাযোগে গ্রিসের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রার আগে ও ওই দিন অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

‎নিখোঁজদের স্বজনদের দাবি, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা করা নৌকাটিতে মোট ৪২ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি। সমুদ্রে যাওয়ার পর নৌযানটি বিকল হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে যায়। এতে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের নিখোঁজ আট যুবক রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎নিখোঁজ আটজন হলেন—শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন এবং রনসী গ্রামের মো.তালহা। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু ও গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ এবং দিরাই উপজেলার দিরাই পৌর এলাকার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার হোসেন রয়েছেন।

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাডুবি ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিখোঁজদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনরা প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
‎চিকারকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ মামুন খান আমার চাচা। আলামিন নামে এক দালাল প্রথমে বলেছিল, লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য কাঠের নৌকা দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তাদের একটি বেলুনের নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। যে নৌকায় ২৫ জন যাত্রী যাওয়ার কথা, সেখানে ৪২ জনকে তোলা হয়েছে। পরে দালাল ফোন করে জানিয়েছে, মামুন গ্রিসে পৌঁছে গেছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু টাকা-পয়সা দেওয়ার পর থেকে দালাল আর আমাদের ফোন ধরছে না। ফোন ধরলেও বিষয়টি অস্বীকার করছে। আমরা এই দালালের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
‎নিখোঁজ মামুন খানের চাচা রাশেদুল (ছদ্মনাম) বলেন, ‘লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য দালালকে ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট সর্বশেষ ভাতিজার সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানিয়েছিল, সেদিনই গ্রিস যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠবে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।’

‎সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, ‘প্রথমে জানা গিয়েছিল, সুনামগঞ্জের কয়েকজনকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে।’
‎এর আগে গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে বারবার এমন ঘটনায় সুনামগঞ্জের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের মুরাদপুরে শব্দদূষণ ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ জনকে জরিমানা‎

‎ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আট যুবক নিখোঁজ, পরিবারে আহাজারি

সময় ০৯:২৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের যুবকের (ফাইল ছবি)


‎লিবিয়া থেকে অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের আট যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

‎হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের বহু তরুণ উন্নত জীবন ও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের মাধ্যমে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ পড়ছেন মানবপাচারকারী ও মাফিয়া চক্রের হাতে, কেউ ফিরছেন লাশ হয়ে,আবার কেউ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে।

‎পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের এসব যুবক ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। পরে গত ৩ আগস্ট রাতে তারা নৌকাযোগে গ্রিসের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রার আগে ও ওই দিন অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

‎নিখোঁজদের স্বজনদের দাবি, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা করা নৌকাটিতে মোট ৪২ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি। সমুদ্রে যাওয়ার পর নৌযানটি বিকল হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে যায়। এতে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের নিখোঁজ আট যুবক রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎নিখোঁজ আটজন হলেন—শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন এবং রনসী গ্রামের মো.তালহা। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু ও গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ এবং দিরাই উপজেলার দিরাই পৌর এলাকার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার হোসেন রয়েছেন।

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাডুবি ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিখোঁজদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনরা প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
‎চিকারকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ মামুন খান আমার চাচা। আলামিন নামে এক দালাল প্রথমে বলেছিল, লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য কাঠের নৌকা দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তাদের একটি বেলুনের নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। যে নৌকায় ২৫ জন যাত্রী যাওয়ার কথা, সেখানে ৪২ জনকে তোলা হয়েছে। পরে দালাল ফোন করে জানিয়েছে, মামুন গ্রিসে পৌঁছে গেছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু টাকা-পয়সা দেওয়ার পর থেকে দালাল আর আমাদের ফোন ধরছে না। ফোন ধরলেও বিষয়টি অস্বীকার করছে। আমরা এই দালালের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
‎নিখোঁজ মামুন খানের চাচা রাশেদুল (ছদ্মনাম) বলেন, ‘লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য দালালকে ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট সর্বশেষ ভাতিজার সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানিয়েছিল, সেদিনই গ্রিস যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠবে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।’

‎সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, ‘প্রথমে জানা গিয়েছিল, সুনামগঞ্জের কয়েকজনকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে।’
‎এর আগে গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে বারবার এমন ঘটনায় সুনামগঞ্জের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।