সিলেট ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন

যুক্তরাজ্যে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ: গোলাপগঞ্জে র‍্যাবের জালে প্রতারক চক্রের মূলহোতা কয়েছ

‎সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যে ‘হেলথ কেয়ার’ ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী মানব পাচার ও প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম কয়েছ আহমদ (৪০)। সে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের ময়নুল হকের ছেলে।

‎মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আহাদ (৫৯) গোলাপগঞ্জ থানার গৌরববাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পূর্বাত্মীয়। তারা পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

‎প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ১ নম্বর আসামি মো. জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যে পাঠান। এতে ভুক্তভোগীদের মনে অভিযুক্তদের প্রতি গভীর আস্থা তৈরি হয়।

‎পরবর্তীতে আত্মীয়পর্যায়ের আরও দুজন তরুণ—আব্দুল আহবাব পারভেজ ও মো. সায়েম যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে চক্রটি তাদের কাছে মোট ৮০ লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৪-৬ মাস সময় লাগবে বলে জানায়। প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা ২০২৩ সালের ১৮ মে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন।

‎টাকা দেওয়ার পর তাদের মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করে ভিসার অপেক্ষা করানো হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও ভিসার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, ৭ নম্বর আসামি রিমি বেগম কর্তৃক প্রদত্ত সকল কাগজপত্র ছিল জাল ও ভুয়া!

‎টাকা ফেরতের দাবি জানালে অভিযুক্তরা উল্টো বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ গোলাপগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

‎মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

‎এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯. টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০৯ (তারিখ: ০৪/০৮/২০২৪, ধারা: ৬(২)/৭/৮(২)/৯(২)) -এর এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি কয়েছ আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার (অতিঃ পুলিশ সুপার) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

যুক্তরাজ্যে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ: গোলাপগঞ্জে র‍্যাবের জালে প্রতারক চক্রের মূলহোতা কয়েছ

সময় ০৫:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

‎সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যে ‘হেলথ কেয়ার’ ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী মানব পাচার ও প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম কয়েছ আহমদ (৪০)। সে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের ময়নুল হকের ছেলে।

‎মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আহাদ (৫৯) গোলাপগঞ্জ থানার গৌরববাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পূর্বাত্মীয়। তারা পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

‎প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ১ নম্বর আসামি মো. জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যে পাঠান। এতে ভুক্তভোগীদের মনে অভিযুক্তদের প্রতি গভীর আস্থা তৈরি হয়।

‎পরবর্তীতে আত্মীয়পর্যায়ের আরও দুজন তরুণ—আব্দুল আহবাব পারভেজ ও মো. সায়েম যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে চক্রটি তাদের কাছে মোট ৮০ লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৪-৬ মাস সময় লাগবে বলে জানায়। প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা ২০২৩ সালের ১৮ মে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন।

‎টাকা দেওয়ার পর তাদের মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করে ভিসার অপেক্ষা করানো হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও ভিসার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, ৭ নম্বর আসামি রিমি বেগম কর্তৃক প্রদত্ত সকল কাগজপত্র ছিল জাল ও ভুয়া!

‎টাকা ফেরতের দাবি জানালে অভিযুক্তরা উল্টো বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ গোলাপগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

‎মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

‎এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯. টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০৯ (তারিখ: ০৪/০৮/২০২৪, ধারা: ৬(২)/৭/৮(২)/৯(২)) -এর এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি কয়েছ আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার (অতিঃ পুলিশ সুপার) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

‎