
মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মতিন মিয়া (১৬) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ১ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১১টা ২৫ মিনিটে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোস্তফা মিয়া (৪৪)। তিনি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার ইছাপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, নিহত মতিন মিয়া মৌলভীবাজার জেলা সদর মডেল থানাধীন শমশেরগঞ্জ দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রতিপক্ষের সাথে তার পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত ২৮ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিন মিয়া আদালতে চলমান মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার আদালতের দিকে রওনা হন। সাক্ষ্য দেওয়া শেষে তিনি বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পান। স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে ওই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে স্বজনদের মাধ্যমে নিহতের স্ত্রী জানতে পারেন যে, সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের পাকা রাস্তার ওপর মতিনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন, হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় লাশ দেখতে পান।
পৈতৃক সম্পত্তি বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা যোগসাজশ করে তাকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট রাতে র্যাব-৯ (সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল এবং সদর কোম্পানি, সিলেট)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল সিলেট নগরীর হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মোস্তফা মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















