সিলেট ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
সিলেটের হুমায়ুন চত্বর থেকে ১৯৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার‎ বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল মালিক ওমরাহ হজ্ব গমন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল হবিগঞ্জের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত ‎হবিগঞ্জে বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু‎ হবিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত ১৬ ‎মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে হত্যা: সিলেটে র‍্যাবের হাতে আসামি গ্রেফতার‎ ​নিয়োগ নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একই পরিবারে দুই চাকরি: শিক্ষক হয়েও সুপারভাইজার! ‎সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৮, আশঙ্কাজনক অনেকে ‎জৈন্তাপুরে চিকনাগুলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ১০০ পরিবার

​নিয়োগ নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একই পরিবারে দুই চাকরি: শিক্ষক হয়েও সুপারভাইজার!



‎ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

‎নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ‘অযোগ্যতা’ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “সরকারি/আধাসরকারি সংস্থায় নিয়মিত বেতনে কর্মরত” ব্যক্তিরা আবেদন করার যোগ্য নন। অথচ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ‘সুরমা চা বাগান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জিনাত মজুমদারকে সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে’। এতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎এছাড়া একই তালিকায় তাঁর আপন ভাই মো. বোরহান ইসলাম মজুমদার (আকিব) তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পরিবারের দুই সদস্যের নিয়োগ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

‎অন্যদিকে, “সুপারভাইজার পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় রজত রায়ের নাম রয়েছে।* স্থানীয়দের দাবি, তাঁর পূর্ববর্তী কোনো শুমারিতে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। অথচ “একই ইউনিয়নের একাধিক অভিজ্ঞ প্রার্থী, যারা পূর্ববর্তী সরকারি শুমারিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সুপারভাইজার পদে আবেদন করেছিলেন, তারা চূড়ান্ত কোনো তালিকাতেই স্থান পাননি।” এতে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎এছাড়া “শাহজালাল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হৃদয় মিয়াকেও তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” এ বিষয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন, তাঁর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। অন্যদিকে, তথ্য সংগ্রাহক পদে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, “নির্বাচিত ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের” অথচ ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, “২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে একাধিক আবেদনকারী ও পূর্ববর্তী শুমারিতে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকলেও চূড়ান্ত কিংবা অপেক্ষমাণ কোনো তালিকাতেই ওই ওয়ার্ডের কোনো প্রার্থীর নাম নেই।”

‎শুধু শাহজাহানপুর ইউনিয়ন নয়, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবেদনকারীদের অভিযোগ, আগের শুমারিগুলোতে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হলেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর নিয়োগে সেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। এতে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা।

‎এসব বিষয় সামনে আসার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়োগে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নীতিমালা ও সমান সুযোগের নীতি কতটা অনুসরণ করা হয়েছে? তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন তালিকা ও নির্বাচন পদ্ধতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিষয়টি তদন্ত করে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের হুমায়ুন চত্বর থেকে ১৯৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার‎

​নিয়োগ নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একই পরিবারে দুই চাকরি: শিক্ষক হয়েও সুপারভাইজার!

সময় ০২:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬



‎ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

‎নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ‘অযোগ্যতা’ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “সরকারি/আধাসরকারি সংস্থায় নিয়মিত বেতনে কর্মরত” ব্যক্তিরা আবেদন করার যোগ্য নন। অথচ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ‘সুরমা চা বাগান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জিনাত মজুমদারকে সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে’। এতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎এছাড়া একই তালিকায় তাঁর আপন ভাই মো. বোরহান ইসলাম মজুমদার (আকিব) তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পরিবারের দুই সদস্যের নিয়োগ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

‎অন্যদিকে, “সুপারভাইজার পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় রজত রায়ের নাম রয়েছে।* স্থানীয়দের দাবি, তাঁর পূর্ববর্তী কোনো শুমারিতে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। অথচ “একই ইউনিয়নের একাধিক অভিজ্ঞ প্রার্থী, যারা পূর্ববর্তী সরকারি শুমারিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সুপারভাইজার পদে আবেদন করেছিলেন, তারা চূড়ান্ত কোনো তালিকাতেই স্থান পাননি।” এতে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎এছাড়া “শাহজালাল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হৃদয় মিয়াকেও তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” এ বিষয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন, তাঁর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। অন্যদিকে, তথ্য সংগ্রাহক পদে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, “নির্বাচিত ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের” অথচ ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, “২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে একাধিক আবেদনকারী ও পূর্ববর্তী শুমারিতে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকলেও চূড়ান্ত কিংবা অপেক্ষমাণ কোনো তালিকাতেই ওই ওয়ার্ডের কোনো প্রার্থীর নাম নেই।”

‎শুধু শাহজাহানপুর ইউনিয়ন নয়, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবেদনকারীদের অভিযোগ, আগের শুমারিগুলোতে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হলেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর নিয়োগে সেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। এতে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা।

‎এসব বিষয় সামনে আসার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়োগে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নীতিমালা ও সমান সুযোগের নীতি কতটা অনুসরণ করা হয়েছে? তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন তালিকা ও নির্বাচন পদ্ধতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিষয়টি তদন্ত করে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।