সিলেট ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
বিয়ানীবাজার থেকে টমটম চালক নিখোঁজ, থানায় জিডি ‎বানিয়াচংয়ে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব (YRC) সদস্যদের গেটটুগেদার অনুষ্ঠিত। ‎গোয়াইনঘাটে ৪ লিস্টার মেশিন ধ্বংস, ডুবিয়ে দেওয়া হলো বালুভর্তি বাল্কহেড শান্তিগঞ্জে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ ‎রক্তাক্ত গণমাধ্যম: সাগর-রুনি থেকে আলিফ ফকিরের বিয়োগান্তক সুর‎ নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার

জুড়ীতে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


‎
‎মৌলভীবাজারের জুড়ীতে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও মৌরসী সম্পত্তি উদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী আম্বিয়া বেগম। সম্প্রতি শহরের একটি রেস্তোরায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে আম্বিয়া বেগম বলেন, আজ আমি অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতনের বিচার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আমার স্বামী মৃত আলী হোসেন জীবদ্দশায় বিদেশে কর্মরত ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন এবং দেশে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করেন এছাড়াও তাহার পারিবারিক মৌরসী সম্পত্তিও রয়েছে। কিন্তু আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ মিলে কৌশলে আমাদের সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হুমকি, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক হামলার মাধ্যমে আমাদেরকে বাড়িছাড়া করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
‎
‎ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে আমরা কোনো ন্যায়বিচার পাইনি। বরং আমাদের ওপর নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি আমার স্বামী জীবিত থাকাকালীন সময়েও তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-
‎মোকদ্দমা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবার পরিচালনার সমস্ত চাপ আমাদের ওপর এসে পড়ে। আমরা নারী মানুষ হিসেবে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছি। বর্তমানে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে।
‎
‎আমরা আরও অভিযোগ করছি যে, আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে আমাদের ন্যায্য সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। আরোও উল্লেখ যে, আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ শুধু আমাদের সম্পত্তি নয় আমার অন্য আরেক ভাসুর মৃত শহিদ মিয়া ও আমার স্বামীর বোনদের সম্পত্তিও জোর করে দখল করে রেখেছেন।
‎
‎বিশেষভাবে উল্লেখ যে, আমার বিবাহিত মেয়েরা আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানদের ভয়ে আমার বাড়ীতে বেড়াতে আসতে পারে না। তারা আমার বাড়ীতে বেড়াতে আসলেই বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন এবং তাদের নামে থানায় গিয়ে ভুয়া মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তাই আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি-আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও মৌরসী সম্পত্তি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করে আমাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। আমাদের পরিবারের ওপর চলমান হুমকি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। আমাদের ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন।
‎
‎এদিকে অভিযুক্ত রফিক মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, উল্টো তাদের সম্পত্তি আম্বিয়া বেগম আত্মসাৎ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ানীবাজার থেকে টমটম চালক নিখোঁজ, থানায় জিডি

জুড়ীতে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সময় ০৩:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‎
‎মৌলভীবাজারের জুড়ীতে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও মৌরসী সম্পত্তি উদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী আম্বিয়া বেগম। সম্প্রতি শহরের একটি রেস্তোরায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে আম্বিয়া বেগম বলেন, আজ আমি অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্যাতনের বিচার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আমার স্বামী মৃত আলী হোসেন জীবদ্দশায় বিদেশে কর্মরত ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন এবং দেশে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করেন এছাড়াও তাহার পারিবারিক মৌরসী সম্পত্তিও রয়েছে। কিন্তু আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ মিলে কৌশলে আমাদের সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হুমকি, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক হামলার মাধ্যমে আমাদেরকে বাড়িছাড়া করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
‎
‎ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে আমরা কোনো ন্যায়বিচার পাইনি। বরং আমাদের ওপর নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি আমার স্বামী জীবিত থাকাকালীন সময়েও তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-
‎মোকদ্দমা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবার পরিচালনার সমস্ত চাপ আমাদের ওপর এসে পড়ে। আমরা নারী মানুষ হিসেবে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছি। বর্তমানে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে।
‎
‎আমরা আরও অভিযোগ করছি যে, আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে আমাদের ন্যায্য সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। আরোও উল্লেখ যে, আমার স্বামীর বড়ভাই অর্থাৎ আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানগণ শুধু আমাদের সম্পত্তি নয় আমার অন্য আরেক ভাসুর মৃত শহিদ মিয়া ও আমার স্বামীর বোনদের সম্পত্তিও জোর করে দখল করে রেখেছেন।
‎
‎বিশেষভাবে উল্লেখ যে, আমার বিবাহিত মেয়েরা আমার ভাসুর রফিক মিয়া ও তার সন্তানদের ভয়ে আমার বাড়ীতে বেড়াতে আসতে পারে না। তারা আমার বাড়ীতে বেড়াতে আসলেই বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন এবং তাদের নামে থানায় গিয়ে ভুয়া মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তাই আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি-আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও মৌরসী সম্পত্তি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করে আমাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। আমাদের পরিবারের ওপর চলমান হুমকি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। আমাদের ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন।
‎
‎এদিকে অভিযুক্ত রফিক মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, উল্টো তাদের সম্পত্তি আম্বিয়া বেগম আত্মসাৎ করেছে।