
সিলেটের জৈন্তাপুরে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই নারীকে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মো. রামিম আহমদ (২৩) নামের এক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জৈন্তাপুর থানাধীন দরবস্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রামিম আহমদ সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার দরবস্ত এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নড়াইল সদর উপজেলার বাহিরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাগরিকা বেগম (৩৯) গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে আসেন। সেখানে নাছরিন বেগম নামের আরেক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা দুজনে জাফলং ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাজারের সামনের রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় ১নং আসামি মো. রামিম আহমদ ৪০০ টাকা ভাড়ায় মাইক্রোবাসে করে জাফলং পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের গাড়িতে তোলেন। গাড়িতে ওঠার পরই আসামিরা তাদের ভারতে উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার লোভ দেখান এবং রাজি না হলে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামিরা ওই নারীদের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের ডিবির হাওর এলাকার শাপলা বিল নামক স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ২নং আসামি হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন তাদের ভারতে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকে। পরে তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় মানবপাচারের বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই ভিকটিম কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসেন এবং জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি রামিম আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান,আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯ এর এ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার 


















