
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও চায়ের স্টলগুলোতে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মধ্যেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য ও লাখাই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এবং কারা নির্যাতিত নেতা মাহবুব আলম মালু।
ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে। তরুণ এই রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবকের পক্ষে সমর্থকরাও পোস্টার, ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব আলম মালু বলেন,ইতিমধ্যে আমি আমার নিজস্ব প্রচেষ্টায় বিভিন্ন রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। নির্বাচনে বিজয়ী হলে জনগণের মুখোমুখি হয়ে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করব।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লুটপাট ও অনিয়মের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে আগাপুর, হরিণাকোনা ও হোসেনপুর গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। এলাকার সচেতন জনগণ আর কোনো মিথ্যা আশ্বাসের সাগরে ভাসতে চায় না, তারা বুঝে শুনে তাদের যোগ্য প্রার্থী বেছে নেবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালু বলেন, শিক্ষা একটি জাতিকে পরিবর্তন করে। তাই করাব ইউনিয়নে ঝরে পড়া রোধ এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে শিক্ষার মান উন্নত করা আমার অন্যতম লক্ষ্য।
মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “মদ, গাজা, ইয়াবা, জুয়া ও চুরি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজকে রক্ষায় এলাকার সচেতন মহল ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রশাসনিক সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অসচ্ছল মানুষের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিজের দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও মামলার বিষয়ে মাহবুব আলম মালু জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন,২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো রায় দেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলার বুল্লা বাজারে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করি। এরপরও আমার বিরুদ্ধে ককটেল ও বিস্ফোরক মামলাসহ অসংখ্য গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ যদি আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেন, তবে ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে করাব ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব।
বিল্লাল আহমেদ, লাখাই প্রতিনিধি 


















