
সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাটে পূর্ব বিরোধের জেরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ব্যবসায়ী বদরুল আলম (৩৫) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হল, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার গোরাগ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে মামুনুর রশীদ (৩৬) এবং একই গ্রামের আব্দুল হামিদ বুলাইয়ের ছেলে সুয়াইবুর রহমান হেছবুর (৩৮)।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, নিহত বদরুল আলম গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপার গ্রামের বাসিন্দা এবং রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী বদরুলের সঙ্গে বালু-পাথর ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে এসআরবি-৯ জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়ী কাজে বাড়ি থেকে বের হন বদরুল। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে বিছানাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রাম এলাকায় আসামিরা তাঁর পথরোধ করে। এ সময় হুকুমদাতার নির্দেশে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সঙ্গে থাকা ছাদেক আলী নামে এক সাক্ষীও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বদরুলকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে এসআরবি-৯ ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২.৪০ মিনিটে দিরাই উপজেলার উশনপুর এলাকা থেকে এবং ভোর ৪.৪০ মিনিটে নন্দিপুর এলাকা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার 

















