
চা বাগানের ছোট্ট একটি কক্ষের বিদ্যালয়। সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি আধভাঙা বেঞ্চে বসে আছে খুদে শিক্ষার্থীরা। সামনের টেবিলে রাখা জন্মদিনের কেক। মিষ্টি, চকলেট ও সিঙ্গারায় সাজানো টেবিল। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে অপেক্ষার ছাপ; কখন কেক কাটা হবে, কখন মিষ্টি-চকলেট খাওয়া হবে, আর কখন নতুন স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরবে!
কুলাউড়ার কালিটি চা বাগানের খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজনে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ জন্মদিন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে কেক কাটার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিষ্টি, চকলেট ও সিঙ্গারা বিতরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন স্কুল ব্যাগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম, কালিটি চা বাগানের উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রশিদ চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণদাস অলমিক, সাংবাদিক, কবি ও শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথ, টিলা ক্লার্ক বলরাম অলমিক, হলিক্রস স্কুলের শিক্ষক দিলীপ দাস, বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক সজীব দেবনাথ, কালিটি যুবসমাজের দয়াল অলমিক এবং শিক্ষিকা শিল্পী অলমিক, সবিতা অলমিক ও দীপা দাস।
অনুভূতি ব্যক্ত করে নারী নেত্রী সাদিয়া নোশিন তাসনিম বলেন, এ ধরনের আয়োজন সত্যিই প্রেরণাদায়ক। নিজের জন্মদিনের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। এমন আয়োজন সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও বিবেকবোধকে আরও জাগ্রত করে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বাগত জানান উপস্থিত সবাই। তাদের মতে, নিজের আনন্দ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই জন্মদিন উদযাপনের প্রকৃত সার্থকতা।
সঞ্জয় দেবনাথ, কুলাউড়া থেকে। 


















