সিলেট ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তিনির্ভর চিন্তার গুরুত্ব অপরিসীমঃ ভাইস চান্সেলর প্রফেসর ড.মোহাম্মদ জহিরুল হক বানিয়াচংয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থী ফাবিয়া তাবাসসুম মীম এঁর বাড়িতে : এমপি ডা. জীবন জামালপুরে জেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ‎ ‎শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচিত কলেজছাত্র নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জন খালাস লাখাইয়ে সাজা শেষে জামিনে মুক্তি, পরোয়ানায় ফের গ্রেপ্তার মাহফু ‎অযত্নে-অবহেলায় বাহুবলের ফয়জাবাদ বধ্যভূমি, রাতে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ ‎দিরাইয়ে এক বিধবা নারীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র, চলাচলের পথ অবরুদ্ধ, থানায় অভিযোগ। ‎জনবল-সংকটে জর্জরিত স্বাস্থ্যসেবা: কর্মীদের মানসিক ঝুঁকির এক অদৃশ্য মহামারি ধনবাড়ীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি সুরুজ গ্রেপ্তার
১০ টাকার ট্যাবলেট ৩০০ টাকায় বিক্রি!

‎জামতলীতে ভুয়া ডাক্তার আলমের প্রতারণা, ধার-দেনা নিয়ে চম্পট‎


‎
‎জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের জামতলী বাজারে আলম নামের এক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা ও অভিনব প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ টাকার সাধারণ ট্যাবলেট ৩০০ টাকায় বিক্রি, বাজারে নাম না শোনা ভেজাল কোম্পানির ওষুধ গছিয়ে দেওয়া এবং ম্যাসাজ মেশিনকে থেরাপির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‎​
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে জামতলী বাজারের তুলসীপুর রোড ব্রিজ সংলগ্ন একটি ভাড়া দোকানে চেয়ার-টেবিল পেতে ‘এন মডেল সেন্টার’ নামে চেম্বার খুলে বসেন কথিত হারবাল চিকিৎসক। তার এই প্রতারণা চক্রে কয়েকজন নারী সহযোগী রয়েছে। তারা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সহজ-সরল ও বিরল রোগে আক্রান্ত লোকজনকে টার্গেট করে চেম্বারে নিয়ে আসত।
‎
‎স্থানীয় ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী আলম জানান, মাজার ব্যথার সমস্যার কারণে তিনি ওই কথিত চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়েছিলেন। ভুয়া চিকিৎসক তাকে ৩০০ টাকার ওষুধ দিয়ে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন যে, দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা সেরে যাবে এবং জীবনেও আর ব্যথা উঠবে না। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ব্যথা না কমায় তিনি অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। তখন ওই চিকিৎসক জানান, প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলো সম্পূর্ণ ভেজাল কোম্পানির এবং সেগুলোর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৪৫ টাকা মাত্র।
‎
‎​চেম্বারের গোপন কক্ষে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে নামসর্বস্ব ভেজাল কোম্পানির ওষুধ, যার নাম বাজারের সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীরাও কখনো শোনেননি। চলমান বাজারের পরিচিত ওষুধের তুলনায় এসব ভেজাল ওষুধ ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। এছাড়া ফ্রি থেরাপি দেওয়ার নামে শরীরে ব্যবহারের সাধারণ একটি ম্যাসাজ মেশিন থেরাপির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।
‎​
‎অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই চেম্বারে গেলে পরিস্থিতি টের পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। এ সময় ভুয়া চিকিৎসক আলমও পালানোর চেষ্টা করলে সাংবাদিকরা তাকে ধরে ফেলেন। তার কাছে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। নিজেকে হার্টের রোগী দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি অপারেশন হয়েছে, আমি একসময় কোটিপতি ছিলাম, আমার নাম আলম, জামালপুরে আমার বাড়ি আছে।’
‎
‎​ডিক্রি, ড্রাগ লাইসেন্স বা বৈধ কোনো সনদপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং কাগজপত্র বাড়ি থেকে এনে দেখানোর নাম করে দুই ঘণ্টার সময় নেন। কিন্তু দুপুরের ওই ঘটনার পর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেনা পরে রাত গভীর হলে তিনি গোপনে চেম্বারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও ভেজাল ওষুধপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আমি ঢাকায় এসেছি” বলেই সংযোগ কেটে দেন।
‎​
‎অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আলমের আসল বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের বানিয়া বাজার এলাকায় এবং তার আসল নাম জাহাঙ্গীর। বানিয়া বাজার এলাকায় ওষুধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে এর আগেও কয়েকবার শাস্তি দিয়েছিলেন। শুধু অপচিকিৎসাই নয়, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জামতলী বাজারে এসেও কয়েকদিনের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাওলাত নিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি পলাতক।
‎​
‎​ওষুধের মতো একটি সংবেদনশীল জীবন রক্ষাকারী পণ্য নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা আলমের (জাহাঙ্গীরের) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তিনির্ভর চিন্তার গুরুত্ব অপরিসীমঃ ভাইস চান্সেলর প্রফেসর ড.মোহাম্মদ জহিরুল হক

১০ টাকার ট্যাবলেট ৩০০ টাকায় বিক্রি!

‎জামতলীতে ভুয়া ডাক্তার আলমের প্রতারণা, ধার-দেনা নিয়ে চম্পট‎

সময় ০৬:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


‎
‎জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের জামতলী বাজারে আলম নামের এক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা ও অভিনব প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ টাকার সাধারণ ট্যাবলেট ৩০০ টাকায় বিক্রি, বাজারে নাম না শোনা ভেজাল কোম্পানির ওষুধ গছিয়ে দেওয়া এবং ম্যাসাজ মেশিনকে থেরাপির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‎​
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে জামতলী বাজারের তুলসীপুর রোড ব্রিজ সংলগ্ন একটি ভাড়া দোকানে চেয়ার-টেবিল পেতে ‘এন মডেল সেন্টার’ নামে চেম্বার খুলে বসেন কথিত হারবাল চিকিৎসক। তার এই প্রতারণা চক্রে কয়েকজন নারী সহযোগী রয়েছে। তারা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সহজ-সরল ও বিরল রোগে আক্রান্ত লোকজনকে টার্গেট করে চেম্বারে নিয়ে আসত।
‎
‎স্থানীয় ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী আলম জানান, মাজার ব্যথার সমস্যার কারণে তিনি ওই কথিত চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়েছিলেন। ভুয়া চিকিৎসক তাকে ৩০০ টাকার ওষুধ দিয়ে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন যে, দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা সেরে যাবে এবং জীবনেও আর ব্যথা উঠবে না। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ব্যথা না কমায় তিনি অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। তখন ওই চিকিৎসক জানান, প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলো সম্পূর্ণ ভেজাল কোম্পানির এবং সেগুলোর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৪৫ টাকা মাত্র।
‎
‎​চেম্বারের গোপন কক্ষে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে নামসর্বস্ব ভেজাল কোম্পানির ওষুধ, যার নাম বাজারের সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীরাও কখনো শোনেননি। চলমান বাজারের পরিচিত ওষুধের তুলনায় এসব ভেজাল ওষুধ ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। এছাড়া ফ্রি থেরাপি দেওয়ার নামে শরীরে ব্যবহারের সাধারণ একটি ম্যাসাজ মেশিন থেরাপির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।
‎​
‎অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই চেম্বারে গেলে পরিস্থিতি টের পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। এ সময় ভুয়া চিকিৎসক আলমও পালানোর চেষ্টা করলে সাংবাদিকরা তাকে ধরে ফেলেন। তার কাছে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। নিজেকে হার্টের রোগী দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি অপারেশন হয়েছে, আমি একসময় কোটিপতি ছিলাম, আমার নাম আলম, জামালপুরে আমার বাড়ি আছে।’
‎
‎​ডিক্রি, ড্রাগ লাইসেন্স বা বৈধ কোনো সনদপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং কাগজপত্র বাড়ি থেকে এনে দেখানোর নাম করে দুই ঘণ্টার সময় নেন। কিন্তু দুপুরের ওই ঘটনার পর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেনা পরে রাত গভীর হলে তিনি গোপনে চেম্বারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও ভেজাল ওষুধপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আমি ঢাকায় এসেছি” বলেই সংযোগ কেটে দেন।
‎​
‎অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আলমের আসল বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের বানিয়া বাজার এলাকায় এবং তার আসল নাম জাহাঙ্গীর। বানিয়া বাজার এলাকায় ওষুধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে এর আগেও কয়েকবার শাস্তি দিয়েছিলেন। শুধু অপচিকিৎসাই নয়, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জামতলী বাজারে এসেও কয়েকদিনের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাওলাত নিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি পলাতক।
‎​
‎​ওষুধের মতো একটি সংবেদনশীল জীবন রক্ষাকারী পণ্য নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা আলমের (জাহাঙ্গীরের) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।