
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২নং জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের নজিব আলী (৭০) পক্ষ এবং আরিছ আলী (৫৫) পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে আস্তমা পয়েন্টে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে একই দিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আস্তমা পয়েন্ট থেকে কিছু দূরে নজিব আলীর বাড়ির পাশের মোবাইল টাওয়ারের সামনে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরিছ আলী পক্ষের রুস্তম আলী(৩৫), পিতা-মৃত আলকাছ আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শান্তিগঞ্জ থানার আস্তমা গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে নজিব আলী(৭০), একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদ ও ছাতক থানা খুরমা ইউনিয়নের কঠালপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আশ্রব আলীর ছেলে জুয়েল মিয়া(৩৭)দেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা মোতাবেক আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। এদিকে, সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার(ওসি) অলিউল্লাহ জানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে, যার মধ্যে একজন আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু সহ তাহাদেরকে ৫৪ ধারা মোতাবেক গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি 


















