সিলেট ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উন্মোচন, মোয়াজ্জিনসহ গ্রেফতার ২ রোটারিয়ানদের টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবেঃ ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ‎সরিষাবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ‎মৌলভীবাজারে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়‎ ‎মৌলভীবাজারে দুই দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ জনের সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ৫টি মোবাইল‎ ‎শান্তিগঞ্জে ‘সামার ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন ‎গোয়াইনঘাটে গ্রাম পুলিশ সদস্য আসাব উদ্দিনের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল ‎জামালপুরে পরকীয়ার জেরে দোকান লুট ও বাড়ি ভাঙচুর: নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার সিলেট পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গ্রাচ্যুইটি ও আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ‎

‎জামালপুরে পরকীয়ার জেরে দোকান লুট ও বাড়ি ভাঙচুর: নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার





জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরশী কান্দারপাড়া এলাকায় প্রতিবেশী গৃহবধূকে নিয়ে পালানো ও পরবর্তীতে প্রতিবাদ করায় দোকান লুটপাট ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আকরাম হোসেন (আকরাম মিস্ত্রি) বাদী হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল নেতা আরজু মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎​অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আকরাম মিয়ার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিতপল্লার চরশি কান্দারপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে রাজনৈতিক নেতা আরজু মিয়া। গত এক বছর ধরে আরজু মিয়া আকরাম মিয়ার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ জামালপুর পৌর শহরের কাচারিপাড়া সংলগ্ন খালেকের মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে তারা স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এরপর আকরাম মিয়া তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন।

‎​ভুক্তভোগীর দাবি, তালাক দেওয়ার পরপরই গত ৮ জুন রাতে আরজু মিয়া ও তার সহযোগীরা আকরাম মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অটোরিকশার ব্যাটারি, মটর, নগদ ৯০ হাজার টাকা ও তামা-কাসার তৈজসপত্রসহ প্রায় কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আকরাম মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন ও আকরামকে  তারা পিটিয়ে জখম করে।

‎​ভুক্তভোগীর ছেলে সাব্বির হোসেন অভিযোগ করে জানায়, আরজু আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়াতেই আমার সৎ মায়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা প্রাণনাশের হুমকির মুখে আছি। বিবাদীরা আমাদের পেছনে লোক লাগিয়ে রাখছে আমাদেরকে যেখানে পাবে সেখানে মারবে আমরা এখন বাড়ি ঘর ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

‎​আকরাম মিয়ার ৫ বছরের শিশু কন্যা রুমানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার মাকে তারা নিয়ে গেছে, আমাদের দেখাশোনা করার কেউ নেই আমি এক বেলা খাই আরেক বেলা না খেয়ে থাকি । আমি আমার মাকে ফিরে পেতে চাই।’

‎​তবে এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আরজু মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি আমি ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ।’ তার স্ত্রী আসমা বেগমও একইভাবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

‎​এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জামালপুর সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সে সময় উভয় পক্ষ পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে কি না, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‎​এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে আইনি সহায়তা ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উন্মোচন, মোয়াজ্জিনসহ গ্রেফতার ২

‎জামালপুরে পরকীয়ার জেরে দোকান লুট ও বাড়ি ভাঙচুর: নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

সময় ১১:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬





জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরশী কান্দারপাড়া এলাকায় প্রতিবেশী গৃহবধূকে নিয়ে পালানো ও পরবর্তীতে প্রতিবাদ করায় দোকান লুটপাট ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আকরাম হোসেন (আকরাম মিস্ত্রি) বাদী হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল নেতা আরজু মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎​অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আকরাম মিয়ার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিতপল্লার চরশি কান্দারপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে রাজনৈতিক নেতা আরজু মিয়া। গত এক বছর ধরে আরজু মিয়া আকরাম মিয়ার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ জামালপুর পৌর শহরের কাচারিপাড়া সংলগ্ন খালেকের মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে তারা স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এরপর আকরাম মিয়া তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন।

‎​ভুক্তভোগীর দাবি, তালাক দেওয়ার পরপরই গত ৮ জুন রাতে আরজু মিয়া ও তার সহযোগীরা আকরাম মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অটোরিকশার ব্যাটারি, মটর, নগদ ৯০ হাজার টাকা ও তামা-কাসার তৈজসপত্রসহ প্রায় কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আকরাম মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন ও আকরামকে  তারা পিটিয়ে জখম করে।

‎​ভুক্তভোগীর ছেলে সাব্বির হোসেন অভিযোগ করে জানায়, আরজু আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়াতেই আমার সৎ মায়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা প্রাণনাশের হুমকির মুখে আছি। বিবাদীরা আমাদের পেছনে লোক লাগিয়ে রাখছে আমাদেরকে যেখানে পাবে সেখানে মারবে আমরা এখন বাড়ি ঘর ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

‎​আকরাম মিয়ার ৫ বছরের শিশু কন্যা রুমানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার মাকে তারা নিয়ে গেছে, আমাদের দেখাশোনা করার কেউ নেই আমি এক বেলা খাই আরেক বেলা না খেয়ে থাকি । আমি আমার মাকে ফিরে পেতে চাই।’

‎​তবে এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আরজু মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি আমি ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ।’ তার স্ত্রী আসমা বেগমও একইভাবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

‎​এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জামালপুর সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সে সময় উভয় পক্ষ পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে কি না, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‎​এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে আইনি সহায়তা ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছে।