সিলেট ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ‎কালের কণ্ঠে যোগ দিলেন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী রাষ্ট্রীয় সম্মানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন ‎চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান ‎মাধবপুরে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস ‎ভোরের নীরবতা ভেঙে পুলিশের অভিযান, ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ আটক মাদক কারবারি ‎হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘আমার আব্বা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বানিয়াচং সাহিত্য পরিষদ পুনর্গঠন: সভাপতি জসিম, সম্পাদক শাহাব ‎মাধবপুরে পানির ফিল্টারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১৯২ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ‎সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন আর নেই

লাখাইয়ে গভীর রাতে মাদ্রাসার সম্পদ পাচার: অনিয়মের হোতা সেই সুপার ও শিক্ষকরা!‎

মালামাল ভর্তি পিকআপ টি পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।




‎হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এবার রাতের আঁধারে সরকারি বই ও মালামাল পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে পাচারকালে মালামাল ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যান আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের লুটপাটের রাজত্ব আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।

‎ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মাদ্রাসার গোপন কক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১ নাম্বারের একটি পিকআপ ভ্যানে সরকারি বই, নথিপত্র ও বৈদ্যুতিক পাখা লোড করা হচ্ছিল। স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন,নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারি সম্পদ গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

‎স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা মালামালগুলো শিক্ষা অফিসে যাচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে গভীর রাতে এমন পরিবহনের কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী গাড়িটি আটকে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই-এর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান, মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশেই এই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে সুপার রফিকুল ইসলাম তার দায় এড়াতে মালামাল গুছাতে দেরি হওয়ার অজুহাত দিলেও সরকারি বই বিক্রির কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। উল্টো তিনি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভিন্ন গল্পের অবতারণা করছেন।

‎অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসাটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

‎কয়েক বছর আগে এই প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা কোনো দৃশ্যমান কাজ ছাড়াই নয়ছয় করা হয়। সংবাদকর্মীরা তথ্য চাইলে শিক্ষকরা তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। গত বছর দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে সরকারি ফি ২১৫০ টাকার জায়গায় ৪০০০ থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এর প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা বুল্লা বাজারে ও ইউএনও অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল।

‎উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকারি সম্পদ ও বই এভাবে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি কমিটির মাধ্যমে দরপত্র ছাড়া এগুলো বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

‎উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার বলেন, আমি ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কোনোভাবেই সরকারি সম্পদের অপচয় বা চুরি মেনে নেওয়া হবে না।

‎এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র এই মালামাল চুরির বিচার নয়, বরং বিগত বছরের বাজেট জালিয়াতি এবং শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের বিষয়গুলোও যেন সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় আনা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

লাখাইয়ে গভীর রাতে মাদ্রাসার সম্পদ পাচার: অনিয়মের হোতা সেই সুপার ও শিক্ষকরা!‎

সময় ০৮:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
মালামাল ভর্তি পিকআপ টি পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।




‎হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এবার রাতের আঁধারে সরকারি বই ও মালামাল পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে পাচারকালে মালামাল ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যান আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের লুটপাটের রাজত্ব আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।

‎ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মাদ্রাসার গোপন কক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১ নাম্বারের একটি পিকআপ ভ্যানে সরকারি বই, নথিপত্র ও বৈদ্যুতিক পাখা লোড করা হচ্ছিল। স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন,নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারি সম্পদ গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

‎স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা মালামালগুলো শিক্ষা অফিসে যাচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে গভীর রাতে এমন পরিবহনের কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী গাড়িটি আটকে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই-এর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান, মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশেই এই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে সুপার রফিকুল ইসলাম তার দায় এড়াতে মালামাল গুছাতে দেরি হওয়ার অজুহাত দিলেও সরকারি বই বিক্রির কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। উল্টো তিনি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভিন্ন গল্পের অবতারণা করছেন।

‎অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসাটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

‎কয়েক বছর আগে এই প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকা কোনো দৃশ্যমান কাজ ছাড়াই নয়ছয় করা হয়। সংবাদকর্মীরা তথ্য চাইলে শিক্ষকরা তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। গত বছর দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে সরকারি ফি ২১৫০ টাকার জায়গায় ৪০০০ থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এর প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা বুল্লা বাজারে ও ইউএনও অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল।

‎উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকারি সম্পদ ও বই এভাবে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি কমিটির মাধ্যমে দরপত্র ছাড়া এগুলো বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

‎উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার বলেন, আমি ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কোনোভাবেই সরকারি সম্পদের অপচয় বা চুরি মেনে নেওয়া হবে না।

‎এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র এই মালামাল চুরির বিচার নয়, বরং বিগত বছরের বাজেট জালিয়াতি এবং শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের বিষয়গুলোও যেন সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় আনা হয়।