সিলেট ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ‎কালের কণ্ঠে যোগ দিলেন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী রাষ্ট্রীয় সম্মানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন ‎চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান ‎মাধবপুরে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস ‎ভোরের নীরবতা ভেঙে পুলিশের অভিযান, ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ আটক মাদক কারবারি ‎হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘আমার আব্বা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বানিয়াচং সাহিত্য পরিষদ পুনর্গঠন: সভাপতি জসিম, সম্পাদক শাহাব ‎মাধবপুরে পানির ফিল্টারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১৯২ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ‎সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন আর নেই

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎




‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎

সময় ১০:২৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬




‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।