সিলেট ০১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক। ‎বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাইদের আহত প্রবাসীর মৃত্যু, ভাই ও ভাবি গ্রেপ্তার‎ ‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎ ‎বাডসের বৈশাখী উৎসবে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকঃ‎আলোকিত সমাজ গঠনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য জামালপুরে গ্রিন বিজনেস মডেলে ভুট্টা চাষের ফসল চাষ প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত প্রতিটি উপজেলায় হবে ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’: শিক্ষামন্ত্রী ‎ছাতকে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন,ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ।‎ সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার জুড়ীতে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎




‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক।

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎

সময় ১০:২৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬




‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।