সিলেট ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে মাইক্রোর ধাক্কায় সিএনজি চূর্ণ-বিচূর্ণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বানিয়াচংয়ের আব্দুল খালিকের মৃত্যু, আহত ২‎ ‎সিলেটে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত: ঘাতক চালক রুমেল গ্রেপ্তার ‎৩৭ বছরে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ, ‘বৈচিত্র্যের উৎসব ‎সিলেটে শব্দ ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ১৪ ট্রাকচালককে জরিমানা ‎লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগির হুক ছিঁড়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ‎ ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ মাধবপুরে ‎গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবে টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন কে এম লিমন জামালপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বয়োবৃদ্ধ জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরী উদ্বোধনে আদর্শিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান এমপি মামুনের কুলাউড়ায় ৮ হাজারের বেশি পানগাছ রাতে আঁধারে কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা!

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎



‎
‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
‎
‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।
‎
‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
‎
‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে মাইক্রোর ধাক্কায় সিএনজি চূর্ণ-বিচূর্ণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বানিয়াচংয়ের আব্দুল খালিকের মৃত্যু, আহত ২‎

হবিগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা: পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ৩০০ একর প্লাবিত‎

সময় ১০:২৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬



‎
‎টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
‎
‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে।
‎
‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা-পাকা বোরো ধান।
‎রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে হাওড়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
‎
‎সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পাশের হাওড়গুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, বোরো ফসল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎এদিকে, হাওড়াঞ্চলে পানির চাপ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
‎