
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে টাকা-পয়সা ও মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন মাহমুদা বেগমকে (৪৫) গোয়াল ঘরের খুঁটির সাথে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ও নিহতের আপন ছোট ভাই আক্তার হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। আজ ০২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এক যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ভিকটিম মাহমুদা বেগমের স্বামী ও ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী হওয়ায় তিনি তার মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। জমি ও টাকা-পয়সা নিয়ে ছোট ভাই আক্তার হোসেনের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা চলছিল। গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে আক্তার হোসেন ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে জানায় তার পরিবার।
পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২১ মার্চ ভোর ৫:৪০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় আসামিরা ভিকটিমের ঘরে ঢুকে তাকে গোয়াল ঘরের বাঁশের খুঁটির সাথে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। গত ২২ মার্চ (ঈদের দিন) সকালে ভিকটিমের বাবা তার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে গোয়াল ঘরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাহমুদার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং:১৪ তারিখ: ২২/০৩/২০২৬ খ্রি. ৩০২/৩৪ ধারার পেনাল কোড ১৮৬০।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং সিপিএসসি (সিলেট) এর একটি যৌথ আভিযানিক দল আজ বিকেলে এসএমপি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আক্তার হোসেন বাঞ্ছারামপুর থানার আকানগর গ্রামের মোঃ নাছির উদ্দিনের ছেলে। র্যাব জানিয়েছে, ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় র্যাবের এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
স্টাফ রিপোর্টার 


















