
ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস। সেই চিরচেনা আনন্দঘন পরিবেশেই এখন মুখর মৌলভীবাজার। মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শহরের প্রতিটি অলিগলি, বিপণীবিতান ও ফুটপাতের দোকানজুড়ে চলছে জমজমাট কেনাবেচা। সকাল গড়াতেই শহরের সাইফুর রহমান রোড (সেন্টালরোড), কুসুমবাগ, শ্রীমঙ্গল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।
বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সেই ভিড় যেন রূপ নেয় উৎসবের মেলায়। রঙিন আলো, নতুন পোশাকের বাহার আর মানুষের হাসিমুখ—সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে পুরো শহরজুড়ে।
সবচেয়ে বেশি আনন্দে মেতে উঠেছে শিশুরা। ছোট ছোট সোনামণিরা বাবা-মায়ের হাত ধরে দোকান থেকে দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নিজের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে ব্যস্ত। কারও হাতে নতুন জুতা, কারও হাতে খেলনা—তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে ঈদের নির্মল আনন্দ।
নারীদের উপস্থিতি বাজারে চোখে পড়ার মতো। শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও প্রসাধনীর দোকান গুলোতে তাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। পছন্দের পোশাক খুঁজে পেতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটে চলছেন তারা। অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও আধুনিক পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। ফ্যাশনের নতুন ধারা অনুসরণে তারা খুঁজছেন ব্যতিক্রমী ডিজাইন।
ঈদ উপলক্ষে শুধু কেনাকাটাই নয়, জমে উঠেছে সামাজিক মিলনমেলাও। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বাজার করা—সব মিলিয়ে শহরের ব্যস্ততাও যেন আনন্দে রূপ নিয়েছে। তবে এই আনন্দের ভিড়ে কিছুটা ভোগান্তিও রয়েছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপ ও যানবাহনের ভিড়ে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে যানজট। তবুও সেই কষ্টকে ছাপিয়ে মানুষের মুখে লেগে আছে ঈদের হাসি।
ব্যবসায়ীরাও খুশি এমন জমজমাট বিক্রিতে। শহরের সাইফুর রহমান রোড এলাকার এক পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এ বছর ক্রেতার উপস্থিতি অনেক ভালো। বিশেষ করে শেষ সপ্তাহে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। আশা করছি শেষ পর্যন্ত এই ধারা থাকবে।
কুসুমবাগ এলাকার আরেক ব্যবসায়ী জানান, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি দামের কারণে কিছু পণ্যের দাম একটু বেশি, তবুও ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি।
সব মিলিয়ে, মৌলভীবাজার এখন যেন এক উৎসবমুখর নগরী—যেখানে কেনাকাটার ভিড়ের মাঝেও ছড়িয়ে আছে ভালোবাসা, আনন্দ আর ঈদের উজ্জ্বল প্রত্যাশা।
আব্দুস সামাদ আজাদ,মৌলভীবাজার থেকে 


















