
প্রবাসে গিয়েছিলেন স্বপ্ন নিয়ে—পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেই প্রবাসজীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষ হলো এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমেদ আলী অবশেষে ফিরলেন নিজের দেশে—তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দী হয়ে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী নিজেই মরদেহটি নিয়ে যান মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাড়িতে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সালেহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। আজমান শহরে তিনি পানি সরবরাহের একটি গাড়ি চালাতেন। প্রবাসের কঠিন জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময়ই প্রাণ হারান সালেহ উদ্দিন। পরে তার ভাইয়েরাই পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন কফিনবন্দী মরদেহ নামানো হয়, তখন স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বহু বছরের প্রবাসজীবনের পর এমনভাবে প্রিয় মানুষটির ফিরে আসা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ থেকে শুরু করে সিলেট হয়ে মৌলভীবাজারে নিজ বাড়িতে পৌঁছানো পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা সরকারিভাবে করা হয়েছে।
মরদেহ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ সেখানে জীবিকার তাগিদে অবস্থান করছেন।
সালেহ উদ্দিনের মৃত্যু যেন সেই বাস্তবতারই একটি করুণ প্রতিচ্ছবি-যেখানে প্রবাসে রুজির সন্ধানে যাওয়া মানুষ কখনো কখনো হয়ে ওঠেন বৈশ্বিক সংঘাতের নীরব শিকার।
আব্দুস সামাদ আজাদ মৌলভীবাজার থেকে। 

















