সিলেট ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: ২ ভিকটিম উদ্ধার সখীপুরে মাটিবাহী ডাম্প ট্রাক উল্টে খাদে  অল্পের জন্য রক্ষা চালক সখিপুরে বেশি দামে তেল বিক্রি: দুই দোকানিকে জরিমানা‎ ‎সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত ‎লাখাইয়ে তুচ্ছ ঘটনায় পৃথক সংঘর্ষ: আহত ২৫ বানিয়াচংয়ে কৃষক ঐক্য সমবায়ের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।‎ সিলেটে ‘হবিগঞ্জ সমিতি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত‎ বিশ্বনাথে ফুটবল খেলো নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, বাকপ্রতিবন্ধি ও স্কুলছাত্রসহ আহত অর্ধশতাধিক ‎ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ‎স্বপ্নপূরণের শেষে নিথর দেহ: ৩৫ বছরের প্রবাস জীবন শেষে কফিনে ফিরলেন সালেহ উদ্দিন

‎বানিয়াচংয়ে বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলার হারুনের বিরুদ্ধে



‎হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে নানা অনিয়ম ও ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডিলার হারুন রশিদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের ক্রয় করা সিলিন্ডারে গ্যাস শেষ পর্যায়ে ‘খাদ’ বা তরল জাতীয় পদার্থ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।


‎জানাগেছে, স্থানীয় সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম বানিয়াচংয়ের ‘হক ট্রেডার্স’ থেকে বসুন্ধরা কোম্পানির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করেন। ব্যবহারের শেষ পর্যায়ে সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাসের পরিবর্তে তরল বা পানি সদৃশ পদার্থ দেখতে পান তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্সের কাছে অভিযোগ করেন।


‎অভিযোগের প্রেক্ষিতে হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হক জানান, তিনি সরকারি লাইসেন্স নিয়ে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তিনি মূলত বিএম গ্যাসের ডিলার হলেও গ্রাহকের চাহিদায় স্থানীয় বসুন্ধরা ডিলার হারুন রশিদের কাছ থেকে নিয়মিত পাইকারি দামে সিলিন্ডার ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করেন। সিলিন্ডারে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায় ডিলারের ওপর বর্তায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি সাংবাদিক শফিক হক ট্রেডার্সের নিয়মিত গ্রাহক। তিনি সাময়িক সমস্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

‎অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার পর ডিলার হারুন রশিদ নিজেকে বাঁচাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, হক ট্রেডার্স নাকি বাইরে থেকে সিলিন্ডার এনে বিক্রি করে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, হক ট্রেডার্স নিয়মিত হারুন রশিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সিলিন্ডার ক্রয় করে আসছে। এবং লেনদেনের সব প্রমাণ হক ট্রেডার্সের খাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

‎স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলার হারুন রশিদ অতি মুনাফার লোভে কোম্পানির আইন অমান্য করে কোনো রশিদ ছাড়াই গ্যাস বিক্রি করেন। এছাড়া কোম্পানির নির্ধারিত উৎসের বাইরে থেকেও নিম্নমানের সিলিন্ডার সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



‎হক ট্রেডার্সের প্রতিবাদ

‎এদিকে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, আমি বানিয়াচংয়ে ন্যায্যমূল্যে গ্যাস বিক্রি করে আসছি। সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম কিছুদিন আগে সিলিন্ডারটি নিয়েছিলেন, তিনি আমাদের নিয়মিত গ্রাহক। সিলিন্ডারের ভেতরে তরল কিছু থাকলে তার দায় উৎপাদনকারী কোম্পানির বা ডিলারের, খুচরা বিক্রেতার নয়। হারুন রশিদ পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে এর দায় এড়াতে পারেন না। আমরা এই বিষয় গুলো সিলিন্ডার কোম্পানির কাছে অভিযোগ জানিয়ে রেখেছি।


‎এ ব্যাপারে বসুন্ধরা ডিলার হারুন রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আগে হক ট্রেডার্স কে দিতাম এখন কিছুদিন হল দেই না।

‎তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিক্রেতা কে ক্যাশমেমো কেন দেন না? তিনি জানান, আমার কাছে চাইলে দিই, না চাইলে দিই না!

‎তিনি কোম্পানির আইন না মেলে রশিদ বিহীন সিলিন্ডার বিক্রি করে চলেছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: ২ ভিকটিম উদ্ধার

‎বানিয়াচংয়ে বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলার হারুনের বিরুদ্ধে

সময় ০১:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬



‎হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে নানা অনিয়ম ও ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডিলার হারুন রশিদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের ক্রয় করা সিলিন্ডারে গ্যাস শেষ পর্যায়ে ‘খাদ’ বা তরল জাতীয় পদার্থ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।


‎জানাগেছে, স্থানীয় সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম বানিয়াচংয়ের ‘হক ট্রেডার্স’ থেকে বসুন্ধরা কোম্পানির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করেন। ব্যবহারের শেষ পর্যায়ে সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাসের পরিবর্তে তরল বা পানি সদৃশ পদার্থ দেখতে পান তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্সের কাছে অভিযোগ করেন।


‎অভিযোগের প্রেক্ষিতে হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হক জানান, তিনি সরকারি লাইসেন্স নিয়ে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তিনি মূলত বিএম গ্যাসের ডিলার হলেও গ্রাহকের চাহিদায় স্থানীয় বসুন্ধরা ডিলার হারুন রশিদের কাছ থেকে নিয়মিত পাইকারি দামে সিলিন্ডার ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করেন। সিলিন্ডারে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায় ডিলারের ওপর বর্তায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি সাংবাদিক শফিক হক ট্রেডার্সের নিয়মিত গ্রাহক। তিনি সাময়িক সমস্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

‎অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার পর ডিলার হারুন রশিদ নিজেকে বাঁচাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, হক ট্রেডার্স নাকি বাইরে থেকে সিলিন্ডার এনে বিক্রি করে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, হক ট্রেডার্স নিয়মিত হারুন রশিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সিলিন্ডার ক্রয় করে আসছে। এবং লেনদেনের সব প্রমাণ হক ট্রেডার্সের খাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

‎স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলার হারুন রশিদ অতি মুনাফার লোভে কোম্পানির আইন অমান্য করে কোনো রশিদ ছাড়াই গ্যাস বিক্রি করেন। এছাড়া কোম্পানির নির্ধারিত উৎসের বাইরে থেকেও নিম্নমানের সিলিন্ডার সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



‎হক ট্রেডার্সের প্রতিবাদ

‎এদিকে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, আমি বানিয়াচংয়ে ন্যায্যমূল্যে গ্যাস বিক্রি করে আসছি। সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম কিছুদিন আগে সিলিন্ডারটি নিয়েছিলেন, তিনি আমাদের নিয়মিত গ্রাহক। সিলিন্ডারের ভেতরে তরল কিছু থাকলে তার দায় উৎপাদনকারী কোম্পানির বা ডিলারের, খুচরা বিক্রেতার নয়। হারুন রশিদ পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে এর দায় এড়াতে পারেন না। আমরা এই বিষয় গুলো সিলিন্ডার কোম্পানির কাছে অভিযোগ জানিয়ে রেখেছি।


‎এ ব্যাপারে বসুন্ধরা ডিলার হারুন রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আগে হক ট্রেডার্স কে দিতাম এখন কিছুদিন হল দেই না।

‎তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিক্রেতা কে ক্যাশমেমো কেন দেন না? তিনি জানান, আমার কাছে চাইলে দিই, না চাইলে দিই না!

‎তিনি কোম্পানির আইন না মেলে রশিদ বিহীন সিলিন্ডার বিক্রি করে চলেছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।