
শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজারে এসে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন মৌলভীবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা থেকে সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে সদর উপজেলার গিয়াসনগর বাজারে পৌঁছালে জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করেন।
দুপুর থেকেই গিয়াসনগর এলাকায় গণসংবর্ধনা ও শোভাযাত্রাকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের পর এম নাসের রহমান একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন। খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান।
শহর প্রদক্ষিণ শেষে তিনি নিজ বাড়ি বাহারমর্দানে গিয়ে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জিয়ারত শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা আবারও ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম নাসের রহমান বলেন,বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে এবং মৌলভীবাজারও এর বাইরে থাকবে না।
তিনি জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক এমন খালগুলো বাছাই করে খনন করা হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন—রাস্তা-ঘাট ও সেতু সংস্কার—তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। ঈদের পর উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জুন মাসে বাজেট ঘোষণার পর জুলাই থেকে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন।
এম নাসের রহমান বলেন, আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—ইনশাআল্লাহ সবার জন্যই কাজ করব।” তিনি জানান, ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৌলভীবাজারের গ্রামীণ জনপদে দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট, জলাবদ্ধতা, বেহাল সড়ক এবং পানির সংকট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। খাল খনন ও অবকাঠামো সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি—এই তিনটি বিষয় এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথের পর প্রথম সফর ছিল উচ্ছ্বাসমুখর; এখন স্থানীয়দের নজর প্রতিশ্রুত উন্নয়নের বাস্তবায়নের দিকে। প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্প, আর প্রকল্প থেকে বাস্তব পরিবর্তন মৌলভীবাজারবাসীর প্রত্যাশা সেই করছেন।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















