সিলেট ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎জুড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ‎গোয়াইনঘাটে ৭১ বোতল বিদেশি মদসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা ‎মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার ‎শেরপুর সেতুতে ৩৬ ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভোগান্তির আশঙ্কা ‎বিয়ানীবাজার থেকে ৩ এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রী উধাও টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ৯৬৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বানিয়াচংয়ে জনতার হাতে ধরা ‘টিকটকার’ ভণ্ড প্রতারক! বানিয়াচংয়ে ভাতিজার হাতে চাচা খুন: মামলায় স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন ‎সিলেটে চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচারের চেষ্টা: দালাল চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

‎মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানে পরাজয়, ‎জামানত রক্ষা করতে পারলেন না ১৪ প্রার্থী‎




‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মাত্র ১০ জন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ১৪ জন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের হার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
‎নির্বাচন কমিশন-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
‎এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি!

‎বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক আসনে একতরফা ভোটের চিত্র স্পষ্ট হওয়ায় অনেক প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।

‎মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী):
‎৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, লাঙল প্রতীকের আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, কাপ-পিরিচ প্রতীকের বেলাল আহমদ, ট্রাক প্রতীকের মো. আব্দুন নূর এবং মাছ প্রতীকের মো. শরিফুল ইসলাম।

‎মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া):
‎৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল কুদ্দুছ, ঘোড়া প্রতীকের এম জিমিউর রহমান চৌধুরী, ফুটবল প্রতীকের নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন, লাঙল প্রতীকের মো. আব্দুল মালিক এবং কাঁচি প্রতীকের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।


‎মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর):
‎৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, দেয়ালঘড়ি প্রতীকের আহমদ বিলাল ও কাস্তে প্রতীকের জহর লাল দত্ত।
‎মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ):


‎৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, শাপলা কলি প্রতীকের প্রীতম দাশ, লাঙল প্রতীকের মোহাম্মদ জরিফ হোসেন এবং মই প্রতীকের মো. আবুল হাসান।

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের কৌশলগত ভোট প্রদানের প্রবণতা—এসবই জামানত হারানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান বেশি হওয়ায় ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানের ফলাফল যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে,তেমনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনাও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জুড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

‎মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানে পরাজয়, ‎জামানত রক্ষা করতে পারলেন না ১৪ প্রার্থী‎

সময় ০৯:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬




‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মাত্র ১০ জন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ১৪ জন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের হার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
‎নির্বাচন কমিশন-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
‎এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি!

‎বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক আসনে একতরফা ভোটের চিত্র স্পষ্ট হওয়ায় অনেক প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।

‎মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী):
‎৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, লাঙল প্রতীকের আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, কাপ-পিরিচ প্রতীকের বেলাল আহমদ, ট্রাক প্রতীকের মো. আব্দুন নূর এবং মাছ প্রতীকের মো. শরিফুল ইসলাম।

‎মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া):
‎৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল কুদ্দুছ, ঘোড়া প্রতীকের এম জিমিউর রহমান চৌধুরী, ফুটবল প্রতীকের নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন, লাঙল প্রতীকের মো. আব্দুল মালিক এবং কাঁচি প্রতীকের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।


‎মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর):
‎৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, দেয়ালঘড়ি প্রতীকের আহমদ বিলাল ও কাস্তে প্রতীকের জহর লাল দত্ত।
‎মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ):


‎৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, শাপলা কলি প্রতীকের প্রীতম দাশ, লাঙল প্রতীকের মোহাম্মদ জরিফ হোসেন এবং মই প্রতীকের মো. আবুল হাসান।

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের কৌশলগত ভোট প্রদানের প্রবণতা—এসবই জামানত হারানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান বেশি হওয়ায় ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানের ফলাফল যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে,তেমনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনাও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।