
নির্বাচনের উত্তাপ, জয়–পরাজয়ের হিসাব, সমর্থকদের আবেগ—সবকিছুর ভিড়েও কখনো কখনো এমন কিছু মুহূর্ত জন্ম নেয়, যা রাজনীতিকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। মৌলভীবাজারে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঠিক তেমনই এক মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী হলো জনপদটি।
বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার দত্তগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মান্নানের বাসভবনে যান নির্বাচনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম নাসের রহমান।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় যেখানে অনেক সময় দূরত্ব আর বিদ্বেষ দৃশ্যমান হয়, সেখানে এ সাক্ষাৎ যেন ব্যতিক্রমী এক বার্তা বহন করে।
সৌজন্য সাক্ষাতে বিজয়ী প্রার্থী নিজ হাতে মিষ্টি খাওয়ান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পরিবেশ—রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জায়গায় স্থান নেয় পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতা।
আব্দুল মান্নান ফুলের তোড়া দিয়ে এম নাসের রহমানকে অভিনন্দন জানান। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর, যেন জয় শুধু একজনের নয়—সমগ্র এলাকার সৌহার্দ্যের।
আব্দুল মান্নানের কণ্ঠে ছিল গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা,
নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে জয়–পরাজয় থাকবেই। জনগণের রায়কে আমি সম্মান জানাই। এম নাসের রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন—আমি তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মৌলভীবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুতা নয়।
বিজয়ী প্রার্থী এম নাসের রহমানও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সৌজন্যমূলক আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে মৌলভীবাজারে এখনো রাজনৈতিক সৌন্দর্য ও সহনশীলতা রয়েছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—আমি সবার প্রতিনিধিত্ব করবো। দল-মত নির্বিশেষে জেলার সার্বিক উন্নয়নই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রাজনীতির জন্য শুধু ইতিবাচক নয়—বরং অনুকরণীয়। ক্ষমতার পালাবদলের সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা গণতন্ত্রকে করে আরও শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও একই সুরে বাঁধা। তাদের ভাষায়, নির্বাচন শেষে সম্মান আর সৌজন্য বজায় থাকলে রাজনীতি হয় মানুষের জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য। মৌলভীবাজারে দেখা পাওয়া এই দৃশ্য তাই শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—এটি রাজনীতির মানবিক মুখ, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে 

















