
জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে
বিজিবি’র ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ নিহত যুবক আতিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার বাদ আছর নিজপাট ইউনিয়নের যশপুর গৌরিশংকর শাহী ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, যশপুর গৌরীশংকর মহল্লার সভাপতি আব্দুল মালিক পাখি, নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস শহীদ শুক্কুর মেম্বার, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সদ্য বিদায়ী সভাপতি নূরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর পূর্ববাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জৈন্তাপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নূরুল ইসলাম।
এছাড়া মরহুমের জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। এসময় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তারঁ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হয়।
এঘটনায় উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার বিষয়ে সঠিক তদন্ত এবং নিহত যুবক আতিক আহমদের অসহায় হতদারিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
(২৬ জানুয়ারি) সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিক মারা যান।
উল্লেখ্য: গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে জৈন্তাপুর সীমান্তের টিপরাখলা এলাকায় জৈন্তাপুর রাজবাড়ি (বিওপি) ক্যাম্পের টহলরত বিজিবি সদস্য -গ্রামবাসীর মধ্যে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দুরে জৈন্তাপুর সাইট্রাস কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সংলগ্ন জমদুয়ার নামক স্থানে এসে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। বিজিবি’র ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন গৌরিসংকর (টিপরাখলা) গ্রামের মৃত নুরনবী মিয়ার পুত্র আতিক আহমদ (২২)। আহতের গায়ে ৩ রাউন্ড গুলি লাগে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি ৪ দিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউ’তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার বিকেলে মারা যান।
নিহতের মা, স্ত্রী, দেড় বছরের শিশু সন্তান এবং ৫ ভাই, ১বোন পরিবারে রয়েছেন। বিজিবি-গ্রামবাসির এই সংঘর্ষের ঘটনায় জৈন্তাপুর রাজবাড়ি (বিওপি) ক্যাম্পের সদস্য ল্যান্স নায়েক সাহাঙ্গীর আলম তিনিও চিকিৎসাধীন সংকটাপুর্ণ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানাগেছে।
বিজিবি এই ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় স্থানীয় বাসিন্দা ১০জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ১৫/২০ জনকে আসামী করে হাবিলদার কামাল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২১,তারিখ:-২৩ জানুয়ারি-২০২৬ খ্রি:। গুলিবিদ্ধ আহত যুবক আতিক আহমদ মারা যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সীমান্তবর্তী পূর্ব-গৌরিসংকর টিপরাখলা এলাকার জনসাধারণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভবিষ্যতে এরকম মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আমাদের এলাকায় আর না ঘটে এবিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি। 














