
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এদেশের মানুষকে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে সারাবিশ্বে আমরা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবাই আগে বাংলাদেশ বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন। সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সভাপতিত্বে বিশাল জনসভার বক্তব্য শুরুতেই তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভোট ডাকাতরা আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। সকল ষড়যন্ত্র আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
এ সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী দিনার সহ যারাই গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সকল নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বক্তব্যে তিনি ওমরাহ হজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, “কাবা ঘরের মালিক কে?” উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘আল্লাহ’ জবাব দিলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সকল অধিকার এবং সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন,কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ধর্মের অপব্যবহার করছে এবং ধর্মের নামে ভোটের রাজনীতি করছে। মানুষ কে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি করছে। ধর্মকে পুজি করে রাজনৈতিক করছে।
তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের ভূমিকা দেশবাসী জানে। এদেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং দেশপ্রেমিকদের দল। আপনারা বিএনপি কে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং শহীদ জিয়ার জনপ্রিয় ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে।
তারেক রহমান ২১ জানুয়ারি বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছান। তিনি ওসামানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে তাঁর শ্বশুরবাড়ি (সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মাহবুব আলীর বাড়ি) বিরাহিমপুরে অবস্থান করেন। সেখানে ‘এলাকার জামাই’ হিসেবে তাঁকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি সিলেট-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল মালিককে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জোবায়দা রহমান আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে এবং সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
২২ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার বিশাল জনসভা শেষে তিনি মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি ঢাকা যাওয়ার পথে একাধিক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
আবদুল হক মামুন & সাদেক আলী খান 



















