সিলেট ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
News Title :
‎হবিগঞ্জে বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় প্রবীণ নাগরিক জহর আলীর মৃত্যু, ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবি ‎সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার: ১০ টাকায় ৮০০ টাকার প্রলোভনে চলত প্রতারণা! ‎ছাতকে স্ত্রীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী আমির আলী সিলেটে গ্রেফতার ‎রাত পোহালেই চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ ‎বানিয়াচংয়ে নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জামালপুরে “জেসমিন” প্রকল্পের উদ্যোগে প্রকল্পের সাথে কাজ করতে আগ্রহী ইনপুট কোম্পানিগুলোর সাথে বৈঠক‎ যমুনা সেতু এলাকায় ৪৯৫ পিস বুপ্রেনোরফাইন ইনজেকশনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার‎ ‎বাহুবলের বিহারীপুর সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ‎ ‎শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন,‎সভাপতি সোহেল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমদ‎। মধুপুরে রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্ট: মাদক সেবনে যুবকের কারাদণ্ড, রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

বানিয়াচংয়ে নিষিদ্ধ জালে মৎস্য নিধন উৎসব,‎বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য!



নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারি’ জালের দখলে খাল বিল।

‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরসহ আশপাশের হাওরাঞ্চল ও খাল-বিল এখন নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারি’ জালের দখলে। সেই সঙ্গে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে জলজ উদ্ভিদসহ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই বরং তাদের নীরবতা ও লোক দেখানো কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের অধিকাংশ খাল ও জলাশয়ে অসংখ্য রিং জাল পেতে রাখা হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস মাছের ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম। এই সময়ে মা মাছ ও রেনু পোনায় জলাশয়গুলো পরিপূর্ণ থাকার কথা থাকলেও সূক্ষ্ম ছিদ্রের রিং জালে আটকা পড়ে নিধন হচ্ছে সব ধরণের জলজ প্রাণী। আধুনিক প্রযুক্তির এই রাক্ষুসে জালে মাছের পাশাপাশি ব্যাঙ, কচ্ছপ, সাপ ও উপকারী জলজ কিটপতঙ্গ আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক স্থানে রাতের আঁধারে ব্যাটারিচালিত ইনভার্টারের মাধ্যমে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা হচ্ছে, যা প্রাকৃতিক প্রজনন চক্রকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। অথচ মাঠ পর্যায়ে তাদের তৎপরতা কেবল কিছু ছবি তোলা এবং দায়সারা প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর ঘটা করে সরকারিভাবে কিছু মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু যেখানে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলোই নিরাপদ নয়, সেখানে নামমাত্র পোনা ছেড়ে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন কেবল একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

‎পরিবেশবিদদের মতে, নদ-নদী ও খাল ভরাট হওয়ার ফলে বানিয়াচংবাসী এখন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার। একইভাবে যদি জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হয়, তবে এর কুফলও দীর্ঘমেয়াদী হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় মৎস্য বিভাগের ওপরই বর্তায়। অচিরেই এই নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর মৎস্য শিকার বন্ধ না হলে বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী হাওরের মৎস্য ভাণ্ডার কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে।

‎এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবী, অবিলম্বে উপজেলা সদরসহ সকল ইউনিয়ন ও হাওরাঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হোক। অন্যথায় মৎস্য সম্পদের এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই দায় নিতে হবে।


ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎হবিগঞ্জে বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় প্রবীণ নাগরিক জহর আলীর মৃত্যু, ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবি

বানিয়াচংয়ে নিষিদ্ধ জালে মৎস্য নিধন উৎসব,‎বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য!

সময় ০৯:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬



নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারি’ জালের দখলে খাল বিল।

‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরসহ আশপাশের হাওরাঞ্চল ও খাল-বিল এখন নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারি’ জালের দখলে। সেই সঙ্গে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে জলজ উদ্ভিদসহ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই বরং তাদের নীরবতা ও লোক দেখানো কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের অধিকাংশ খাল ও জলাশয়ে অসংখ্য রিং জাল পেতে রাখা হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস মাছের ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম। এই সময়ে মা মাছ ও রেনু পোনায় জলাশয়গুলো পরিপূর্ণ থাকার কথা থাকলেও সূক্ষ্ম ছিদ্রের রিং জালে আটকা পড়ে নিধন হচ্ছে সব ধরণের জলজ প্রাণী। আধুনিক প্রযুক্তির এই রাক্ষুসে জালে মাছের পাশাপাশি ব্যাঙ, কচ্ছপ, সাপ ও উপকারী জলজ কিটপতঙ্গ আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক স্থানে রাতের আঁধারে ব্যাটারিচালিত ইনভার্টারের মাধ্যমে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা হচ্ছে, যা প্রাকৃতিক প্রজনন চক্রকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। অথচ মাঠ পর্যায়ে তাদের তৎপরতা কেবল কিছু ছবি তোলা এবং দায়সারা প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর ঘটা করে সরকারিভাবে কিছু মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু যেখানে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলোই নিরাপদ নয়, সেখানে নামমাত্র পোনা ছেড়ে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন কেবল একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

‎পরিবেশবিদদের মতে, নদ-নদী ও খাল ভরাট হওয়ার ফলে বানিয়াচংবাসী এখন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার। একইভাবে যদি জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হয়, তবে এর কুফলও দীর্ঘমেয়াদী হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় মৎস্য বিভাগের ওপরই বর্তায়। অচিরেই এই নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর মৎস্য শিকার বন্ধ না হলে বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী হাওরের মৎস্য ভাণ্ডার কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে।

‎এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবী, অবিলম্বে উপজেলা সদরসহ সকল ইউনিয়ন ও হাওরাঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হোক। অন্যথায় মৎস্য সম্পদের এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই দায় নিতে হবে।