সিলেট ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
News Title :
লাখাইয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা জব্দ, আটক ১ হবিগঞ্জে ‎ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক বিয়ানীবাজারে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ‎শান্তিগঞ্জে কাভার ভ্যানের চাপায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত ‎দিরাই’র মিতা হত্যা মামলার নারী আসামী সিলেটে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ‎মাধবপুরে সালিশ বৈঠকে ভিডিও ধারণ নিয়ে  সংঘর্ষ, আহত ৩০ বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ‎কালের কণ্ঠে যোগ দিলেন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী রাষ্ট্রীয় সম্মানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
মরণদশায় বানিয়াচং হাওরের নদ-নদী,

‎হুমকির মুখে বোরো চাষ ও জীববৈচিত্র্য

হাওরের নদী, শুকিয়ে বালুচর, সুটকি নদী বর্তমান অবস্থা। ছবি- আতাউর রহমান মিলন।




‎দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী এখন ধূ ধূ বালুচর। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত নদী খনন ও পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি।

‎স্থানীয় কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নদী খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। বানিয়াচংয়ে কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা জব্দ, আটক ১

মরণদশায় বানিয়াচং হাওরের নদ-নদী,

‎হুমকির মুখে বোরো চাষ ও জীববৈচিত্র্য

সময় ১০:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হাওরের নদী, শুকিয়ে বালুচর, সুটকি নদী বর্তমান অবস্থা। ছবি- আতাউর রহমান মিলন।




‎দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী এখন ধূ ধূ বালুচর। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত নদী খনন ও পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি।

‎স্থানীয় কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নদী খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। বানিয়াচংয়ে কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।