সিলেট ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
চুনারুঘাটে বন বিভাগের অভিযানে ২৬ মন কয়লা জব্দ ‎সিলেটে র‍্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান: ১৪ গাড়িকে জরিমানা ও হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ‎ ‎কানাডায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ডলি বেগমের আবেগঘন বক্তৃতা: বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির হাম-রুবেলা প্রতিরোধে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু‎ ‎মৌলভীবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঝড়ের তাণ্ডবে নবীগঞ্জে জনদুর্ভোগ, গাছ পড়ে সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎ নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‎সিলেট ওসমানী মেডিকেলে বানিয়াচংয়ের কুখ্যাত দালাল চক্রের মুলহোতা আটক। ‎বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাইদের আহত প্রবাসীর মৃত্যু, ভাই ও ভাবি গ্রেপ্তার‎ ‎বানিয়াচংয়ে অকাল বন্যায় ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন: ফসল রক্ষায় লড়ছেন দিশেহারা কৃষক ‎সিলেটে ও সুনামগঞ্জে র‍্যাব-বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান: ১১ চালককে জরিমানা, ৭টি সিএনজি জব্দ‎
মরণদশায় বানিয়াচং হাওরের নদ-নদী,

‎হুমকির মুখে বোরো চাষ ও জীববৈচিত্র্য

হাওরের নদী, শুকিয়ে বালুচর, সুটকি নদী বর্তমান অবস্থা। ছবি- আতাউর রহমান মিলন।




‎দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী এখন ধূ ধূ বালুচর। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত নদী খনন ও পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি।

‎স্থানীয় কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নদী খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। বানিয়াচংয়ে কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে বন বিভাগের অভিযানে ২৬ মন কয়লা জব্দ

মরণদশায় বানিয়াচং হাওরের নদ-নদী,

‎হুমকির মুখে বোরো চাষ ও জীববৈচিত্র্য

সময় ১০:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হাওরের নদী, শুকিয়ে বালুচর, সুটকি নদী বর্তমান অবস্থা। ছবি- আতাউর রহমান মিলন।




‎দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণ হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী এখন ধূ ধূ বালুচর। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত নদী খনন ও পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি।

‎স্থানীয় কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নদী খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। বানিয়াচংয়ে কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।