সিলেট ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
‎নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিপ্রবি পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই হবে : এমপি কয়ছর‎ হবিগঞ্জে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন ‎চুনারুঘাটে নদীভাঙন প্রতিরোধক জিও ব্যাগ কাজের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ‎চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক  বৃদ্ধ নিখোঁজ ‎শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার : সাইবার সুরাক্ষা আইনে মামলা দায়ের জামালপুরে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ‎মৌলভীবাজারে ১৭ জুন তারেক রহমানের জনসভা: ভেন্যু পরিবর্তন,গভ.স্কুল মাঠে প্রস্তুতি শুরু বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী: বিনম্র শ্রদ্ধা

শাহ আবদুল করিম (১৯১৬-২০০৯)। ছবি- সংগৃহীত।




‎ভাটি বাংলার প্রাণপুরুষ, কিংবদন্তি বাউল সম্রাট এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ।

‎কালজয়ী এই মরমী সাধকের জন্মদিনে অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

‎শাহ আবদুল করিম কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মনে-প্রাণে এক অসাম্প্রদায়িক ও উদার সমাজব্যবস্থার স্বপ্নদ্রষ্টা। তার গানে বারবার উঠে এসেছে গ্রামবাংলার চিরায়ত সম্প্রীতির কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের ঐক্যে এবং গেয়েছেন সাম্যের গান।


‎তার সেই চিরচেনা সুর আজও আমাদের কাঁদায়,

‎”গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান,

‎মিলিয়া বাউলা গান আর ঘাটুগান গাইতাম,

‎আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।”

‎শোষণহীন সমাজের আকুতি ছিল তার রচনার অন্যতম প্রধান দিক। তিনি যেমন স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তেমনি স্রষ্টার কাছেই মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতিকার চেয়ে সওয়াল করেছেন। দরিদ্র মানুষের হাহাকার তার গানে মূর্ত হয়ে উঠেছে পরম মমতায়,

‎”জিজ্ঞেস করি তোমার কাছে বল ওগো সাই

‎এ জীবনে যত দুঃখ কে দিয়েছে বল তাই,

‎একি তোমার বিবেচনা, কেউরে দিলায় মাখন ছানা

‎কারও মুখে অন্ন জোটেনা ভাঙা ঘরে ছানি নাই…”

‎শাহ আবদুল করিম,১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, দিরাই, সুনামগঞ্জ ধলআশ্রম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মানবতাবাদ,অসাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা স্বপ্ন সব সময় দেখে আসছেন।

‎২০০১ সালে সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’,

তার জনপ্রিয় সৃষ্টি: ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘বসন্ত বাতাসে’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা শাহ আবদুল করিম। এছাড়াও বহু গ্রন্থের রচয়িতা বাউল শাহ আবদুল করিম।


‎শাহ আবদুল করিম তার গানের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তার দেখানো অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

‎কালজয়ী এই মরমী কবির জন্মবার্ষিকীতে আমরা আবারও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিপ্রবি পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই হবে : এমপি কয়ছর‎

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী: বিনম্র শ্রদ্ধা

সময় ০২:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শাহ আবদুল করিম (১৯১৬-২০০৯)। ছবি- সংগৃহীত।




‎ভাটি বাংলার প্রাণপুরুষ, কিংবদন্তি বাউল সম্রাট এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ।

‎কালজয়ী এই মরমী সাধকের জন্মদিনে অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

‎শাহ আবদুল করিম কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মনে-প্রাণে এক অসাম্প্রদায়িক ও উদার সমাজব্যবস্থার স্বপ্নদ্রষ্টা। তার গানে বারবার উঠে এসেছে গ্রামবাংলার চিরায়ত সম্প্রীতির কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের ঐক্যে এবং গেয়েছেন সাম্যের গান।


‎তার সেই চিরচেনা সুর আজও আমাদের কাঁদায়,

‎”গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান,

‎মিলিয়া বাউলা গান আর ঘাটুগান গাইতাম,

‎আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।”

‎শোষণহীন সমাজের আকুতি ছিল তার রচনার অন্যতম প্রধান দিক। তিনি যেমন স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তেমনি স্রষ্টার কাছেই মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতিকার চেয়ে সওয়াল করেছেন। দরিদ্র মানুষের হাহাকার তার গানে মূর্ত হয়ে উঠেছে পরম মমতায়,

‎”জিজ্ঞেস করি তোমার কাছে বল ওগো সাই

‎এ জীবনে যত দুঃখ কে দিয়েছে বল তাই,

‎একি তোমার বিবেচনা, কেউরে দিলায় মাখন ছানা

‎কারও মুখে অন্ন জোটেনা ভাঙা ঘরে ছানি নাই…”

‎শাহ আবদুল করিম,১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, দিরাই, সুনামগঞ্জ ধলআশ্রম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মানবতাবাদ,অসাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা স্বপ্ন সব সময় দেখে আসছেন।

‎২০০১ সালে সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’,

তার জনপ্রিয় সৃষ্টি: ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘বসন্ত বাতাসে’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা শাহ আবদুল করিম। এছাড়াও বহু গ্রন্থের রচয়িতা বাউল শাহ আবদুল করিম।


‎শাহ আবদুল করিম তার গানের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তার দেখানো অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

‎কালজয়ী এই মরমী কবির জন্মবার্ষিকীতে আমরা আবারও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।