সিলেট ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
‎জামালপুরে রাস্তার ইট বিক্রি মামলার আসামিকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধুকে নেশাগ্রস্ত করে বসতঘর ও আসবাবপত্র বিক্রির অভিযোগ কুলাউড়ার অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত‎ সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন।‎ বানিয়াচংয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ‎জামালপুরে ইউপি শহীদ মিনারে মুরগি জবাই করে রক্ত-ময়লার স্তূপ: প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ হবিগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ডাকাতি ও ছিনতাইকারী মামলার পলাতক আসামি রিপন গ্রেপ্তার ‎মৌলভীবাজারে ৮ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, নগদ ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও প্রাইভেটকার জব্দ‎ ‎জেলা সেরা থেকে রেঞ্জসেরা: শেরপুর ফাঁড়ির এসআই ওবায়দুল্লাহর সাফল্য ‎জামালপুরের মেলান্দহে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিদর্শন করলেন ইউএনও জিন্নাতুল আরা ‎নগরীর আম্বরখানা থেকে ১০ কেজি গঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব।

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ২৭ বছর তালাবদ্ধ ওটি, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বানিয়াচং





‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে খ্যাত বানিয়াচং উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (OT) বন্ধ থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। কাগজে-কলমে অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও বাস্তবে সেখানে জমেছে ধুলোর আস্তর, আর অকেজো হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতি।


‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বশেষ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন জেনারেল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এই বিভাগটি। এরপর বিভিন্ন সময় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সমন্বয়হীনতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। কখনও সার্জন থাকলে অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকেন না, আবার অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকলেও পাওয়া যায় না অভিজ্ঞ নার্স বা সার্জন।


‎১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়াই এখন বানিয়াচংবাসীর নিয়তি। সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই রোগীদের হবিগঞ্জ সদর বা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও মেহনতি মানুষ।

‎এক ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসে তিনি কেবল উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের দেখা পেয়েছেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি হবিগঞ্জে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি হাসপাতালের পিয়ন দিয়ে সেলাই করানোর মতো অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।



‎জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারণে জরুরি কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি।” উল্লেখ্য, তিনি গত ৬-৭ বছর ধরে এই হাসপাতালেই কর্মরত আছেন।


‎বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন নির্বাচনের আগে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বানিয়াচংবাসীর জোরালো দাবি— একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অতি দ্রুত এই মৃতপ্রায় অপারেশন থিয়েটারটি সচল করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জামালপুরে রাস্তার ইট বিক্রি মামলার আসামিকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধুকে নেশাগ্রস্ত করে বসতঘর ও আসবাবপত্র বিক্রির অভিযোগ

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ২৭ বছর তালাবদ্ধ ওটি, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

সময় ১২:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বানিয়াচং





‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে খ্যাত বানিয়াচং উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (OT) বন্ধ থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। কাগজে-কলমে অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও বাস্তবে সেখানে জমেছে ধুলোর আস্তর, আর অকেজো হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতি।


‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বশেষ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন জেনারেল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এই বিভাগটি। এরপর বিভিন্ন সময় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সমন্বয়হীনতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। কখনও সার্জন থাকলে অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকেন না, আবার অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকলেও পাওয়া যায় না অভিজ্ঞ নার্স বা সার্জন।


‎১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়াই এখন বানিয়াচংবাসীর নিয়তি। সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই রোগীদের হবিগঞ্জ সদর বা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও মেহনতি মানুষ।

‎এক ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসে তিনি কেবল উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের দেখা পেয়েছেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি হবিগঞ্জে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি হাসপাতালের পিয়ন দিয়ে সেলাই করানোর মতো অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।



‎জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারণে জরুরি কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি।” উল্লেখ্য, তিনি গত ৬-৭ বছর ধরে এই হাসপাতালেই কর্মরত আছেন।


‎বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন নির্বাচনের আগে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বানিয়াচংবাসীর জোরালো দাবি— একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অতি দ্রুত এই মৃতপ্রায় অপারেশন থিয়েটারটি সচল করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।