
হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতিগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৫টি রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে যাত্রী সাধারণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সংঘাতের মূলে রয়েছে সিরিয়াল ফি কেন্দ্রিক বিরোধ। বানিয়াচং সিএনজি মালিক সমিতির (রেজি:১০৭৪) সাধারণ সম্পাদক এস.আর.সবুজ মিয়া বানিয়াচং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে, হবিগঞ্জ সিএনজি মালিক সমিতির (খোয়াই নদীর উত্তরপাড় স্ট্যান্ড) কয়েকজন ব্যক্তি নির্ধারিত ১০ টাকা ফির বদলে জোরপূর্বক ও এলাকার প্রভাব খাটিয়ে ২০ টাকা করে সিরিয়াল ফি আদায় করছেন। তাদের কথা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা না দিলে সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং চলাচলে বাধা প্রদান করা হয়।
সবুজ মিয়া এই বেআইনি টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিপক্ষের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে গড়ায় বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজার সমিতির কয়েকজন শ্রমিক ১৭ নভেম্বর (সোমবার) সকালে হবিগঞ্জ খোয়াই মুখ স্ট্যান্ডে সিরিয়াল লিখতে গেলে স্ট্যান্ড ম্যানেজার তাদের সিরিয়াল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ম্যানেজারের লোকজন বানিয়াচংয়ের শ্রমিকদের উপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়।
এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্যানিংগঞ্জ বাজার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে পাঁচটি রুটে (হবিগঞ্জ থেকে গ্যানিংগঞ্জ বাজার, শিবপাশা থেকে আজমিরীগঞ্জ সহ) তাদের সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন।
আহত চালক মোজাক্কির মিয়া জানান, বৈধ ফি দিতে রাজি থাকলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার অভাবে তারা গাড়ি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

সিএনজি না পেয়ে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ টমটম ও মিশুক গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করছেন। একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই সমিতির বিরোধের খেসারত সাধারণ যাত্রীদের দিতে হচ্ছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এক কলেজ ছাত্রী জানান, সিএনজি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে, তেমনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টমটমে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় অনেকেই মনে করছেন, উভয়পক্ষের বর্তমান উত্তেজনা যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।
সেনা ক্যাম্পে মধ্যস্থতার উদ্যোগ ও প্রশাসনের তৎপরতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৭ নভেম্বর (সোমবার) দুপুর ১২টায় বানিয়াচং উপজেলা সেনা ক্যাম্পে বিরোধ সৃষ্টিকারী অভিযুক্ত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকদেরকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেনাক্যাম্প থেকে বের হয়ে শ্রমিক নেতারা জানান,
আগামী শুক্রবারে মিমাংসার বিষয়টি হবিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে জানানোর সিদ্ধান্তে ৩দিনের সময় দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তার নিকট হতে।
এছাড়া গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ৩টি সংগঠন একত্রিত হয়ে বসে মিমাংসা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া।
এছাড়াও ৩টি সংগঠনের মধ্যে হবিগঞ্জ খোয়াই মুখ সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ও বানিয়াচং উপজেলা গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতিকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার)ও বানিয়াচং সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহেদ মিয়ার সভাপতিত্বে মিমাংসা বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেতৃবৃন্দ।
বানিয়াচং থেকে সেনা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং উপজেলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সুহেল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ মিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল শমসের।
হবিগঞ্জ থেকে সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতা হাবিবুর রহমান,আয়ূব আলী ও জহুর আলী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সেনা ক্যাম্প থেকে ৩দিনের সময় নিয়ে আসার পর পর বেলা ১টার দিকে বন্ধ থাকা সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মালিক সমিতির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোঃ শাহেদ মিয়া মেম্বার।।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং হামলা-ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের সাথে সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ আর রুমন। 


















