সিলেট ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
লাখাইয়ে নতুন ইউএনও তারেক হাসান, এর যোগদান ‎বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বানিয়াচংয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ পাচার, মিনি ট্রাক জব্দ ‎প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ উপসচিবকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পদায়ন ‎বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের আংশিক কমিটি ঘোষণা, সভাপতি বকুল খান সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান
মনিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব রাসপূর্ণিমা

‎পূর্ণিমার আলোয় কমলগঞ্জে মহারাস‎নৃত্য, ভক্তি আর ঐতিহ্যের এক মোহময় রাত‎

রাখাল নৃত্য, শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল।




‎পূর্ণিমার আলো যেন সাদা শালুচাদর বিছিয়ে দিয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে।
‎পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে ভেসে আসছে মণিপুরি মৃদঙ্গ, বাঁশি আর কণ্ঠসুরের তান।
‎শত বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আবারও শুরু হয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব-শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা।

‎এই জনপদে একবার পা রাখলেই বোঝা যায়, উৎসব কাকে বলে। মানুষের মুখে হাসি, চোখে উচ্ছ্বাস, আর চারপাশে রঙিন পোশাকের ঢেউ-সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ যেন এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আবেশে নিমজ্জিত।

‎মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব হয়েছিল ১৮৪২ সালে। তারপর থেকে প্রতিবছর কার্তিকের পূর্ণিমা রাত এলেই মণিপুরি সমাজ মাতোয়ারা হয়ে ওঠে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা স্মরণে।

‎একসময় বাঁশের আলো, ডিমের প্রদীপ আর কাঁসার পাত্রে ভেসে উঠত নীলাভ আলো। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মণিপুরিদের হৃদয়ে এই রাসোৎসব আজও একই ভক্তি আর নিষ্ঠায় ধরে রেখেছে পুরোনো দিনের রুপ।

‎বুধবার(৫ নভেম্বর) সকাল থেকেই মাধবপুর শিববাজারের জোড়া মন্দির আর আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে মানুষের ঢল নামে। দুপুরে শুরু হওয়া গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য যেন দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৃষ্ণের শৈশব স্মৃতির বৃন্দাবনে।
‎রাত নামতেই শুরু হয় রাসনৃত্য—যেখানে লাল-সবুজ-সাদা পোশাকে সজ্জিত মণিপুরি নারীরা নৃত্যে তুলে ধরেন রাধা-কৃষ্ণের দোলায়িত প্রেমকাহিনি।চাঁদের আলোয় ভেসে ওঠা সেই নৃত্যমঞ্চে যখন শুরু হয় মহারাস, তখন দর্শক-ভক্তরা নীরব হয়ে তাকিয়ে থাকে এক অনন্ত মুগ্ধতায়।

‎প্রায় ৫০ জন গোপী, রাধা আর শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা পালনকারীরা এক ছন্দে, এক আবেগে নেচে ওঠেন রাতভর।এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না—এটি শুধুই একটি উৎসব। মনে হয় যেন ভক্তিময় কোনো আধ্যাত্মিক অভিসারে অংশ নিচ্ছে সমগ্র জনপদ।

‎উৎসব উপলক্ষে মাধবপুর ও আদমপুর—দুই স্থানেই বসেছে রঙিন মেলা। হরেক রকম মণিপুরি পোশাক, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার আর শিশুদের খেলনা—সব মিলিয়ে এই মেলাগুলো যেন উৎসবের প্রাণ। দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক, চিত্রশিল্পী, লেখক-যে যার মতো করে খুঁজে নিচ্ছেন মণিপুরি ঐতিহ্যের রং।

উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামা কান্ত সিংহ বললেন—তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব—সবাই মাঠে আছে।

‎কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর মনে করিয়ে দেন উৎসবের মূল দর্শন-ভক্তি, সৌন্দর্য আর সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে মহারাস এখন আর কেবল মণিপুরিদের নয়—সবার উৎসব।

‎চাঁদের আলো, বাঁশির সুর, গোপীদের নৃত্যভঙ্গি, দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে পূর্ণিমার রাতটি যেন এক শিল্পময় অধ্যায়। যে কেউ এই রাত দেখলে বুঝবে-ঐতিহ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় থাকে না, মানুষের হৃদয়ে থেকেও বেঁচে থাকে। আর সেই বেঁচে থাকার সবচেয়ে মোহময় উদাহরণ—কমলগঞ্জের শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লাখাইয়ে নতুন ইউএনও তারেক হাসান, এর যোগদান

মনিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব রাসপূর্ণিমা

‎পূর্ণিমার আলোয় কমলগঞ্জে মহারাস‎নৃত্য, ভক্তি আর ঐতিহ্যের এক মোহময় রাত‎

সময় ০৭:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

রাখাল নৃত্য, শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল।




‎পূর্ণিমার আলো যেন সাদা শালুচাদর বিছিয়ে দিয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে।
‎পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে ভেসে আসছে মণিপুরি মৃদঙ্গ, বাঁশি আর কণ্ঠসুরের তান।
‎শত বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আবারও শুরু হয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব-শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা।

‎এই জনপদে একবার পা রাখলেই বোঝা যায়, উৎসব কাকে বলে। মানুষের মুখে হাসি, চোখে উচ্ছ্বাস, আর চারপাশে রঙিন পোশাকের ঢেউ-সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ যেন এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আবেশে নিমজ্জিত।

‎মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব হয়েছিল ১৮৪২ সালে। তারপর থেকে প্রতিবছর কার্তিকের পূর্ণিমা রাত এলেই মণিপুরি সমাজ মাতোয়ারা হয়ে ওঠে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা স্মরণে।

‎একসময় বাঁশের আলো, ডিমের প্রদীপ আর কাঁসার পাত্রে ভেসে উঠত নীলাভ আলো। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মণিপুরিদের হৃদয়ে এই রাসোৎসব আজও একই ভক্তি আর নিষ্ঠায় ধরে রেখেছে পুরোনো দিনের রুপ।

‎বুধবার(৫ নভেম্বর) সকাল থেকেই মাধবপুর শিববাজারের জোড়া মন্দির আর আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে মানুষের ঢল নামে। দুপুরে শুরু হওয়া গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য যেন দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৃষ্ণের শৈশব স্মৃতির বৃন্দাবনে।
‎রাত নামতেই শুরু হয় রাসনৃত্য—যেখানে লাল-সবুজ-সাদা পোশাকে সজ্জিত মণিপুরি নারীরা নৃত্যে তুলে ধরেন রাধা-কৃষ্ণের দোলায়িত প্রেমকাহিনি।চাঁদের আলোয় ভেসে ওঠা সেই নৃত্যমঞ্চে যখন শুরু হয় মহারাস, তখন দর্শক-ভক্তরা নীরব হয়ে তাকিয়ে থাকে এক অনন্ত মুগ্ধতায়।

‎প্রায় ৫০ জন গোপী, রাধা আর শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা পালনকারীরা এক ছন্দে, এক আবেগে নেচে ওঠেন রাতভর।এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না—এটি শুধুই একটি উৎসব। মনে হয় যেন ভক্তিময় কোনো আধ্যাত্মিক অভিসারে অংশ নিচ্ছে সমগ্র জনপদ।

‎উৎসব উপলক্ষে মাধবপুর ও আদমপুর—দুই স্থানেই বসেছে রঙিন মেলা। হরেক রকম মণিপুরি পোশাক, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার আর শিশুদের খেলনা—সব মিলিয়ে এই মেলাগুলো যেন উৎসবের প্রাণ। দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক, চিত্রশিল্পী, লেখক-যে যার মতো করে খুঁজে নিচ্ছেন মণিপুরি ঐতিহ্যের রং।

উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামা কান্ত সিংহ বললেন—তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব—সবাই মাঠে আছে।

‎কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর মনে করিয়ে দেন উৎসবের মূল দর্শন-ভক্তি, সৌন্দর্য আর সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে মহারাস এখন আর কেবল মণিপুরিদের নয়—সবার উৎসব।

‎চাঁদের আলো, বাঁশির সুর, গোপীদের নৃত্যভঙ্গি, দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে পূর্ণিমার রাতটি যেন এক শিল্পময় অধ্যায়। যে কেউ এই রাত দেখলে বুঝবে-ঐতিহ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় থাকে না, মানুষের হৃদয়ে থেকেও বেঁচে থাকে। আর সেই বেঁচে থাকার সবচেয়ে মোহময় উদাহরণ—কমলগঞ্জের শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা।