
চলতি ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এবার এ বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সাথে কমেছে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
শনিবার সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
শিক্ষা বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট বোর্ডের অধীনে মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। যার মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫০.৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন পরীক্ষার্থী।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১.৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন।
বিগত বছরগুলোর পাসের হারের চিত্র ও বোর্ডের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাসের হার ছিল যথাক্রমে ২০২৪: ৮৫.৩৯%, ২০২৩: ৭১.৬২% ২০২২: ৮১.৪০%, ২০২১: ৯৪.৮০%, ২০২০: ১০০% (অটোপাস),২০১৯: ৬৭.০৫%, ২০১৮: ৭৩.৭০%, ২০১৭: ৭২.০০%, ২০১৬: ৬৮.৫৯%,২০১৫: ৭৪.৫৭% ও ২০১৪: ৭৯.১৬%।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে পরীক্ষা ছাড়াই সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এবং জেএসসি-এসএসসির নম্বরের ভিত্তিতে ফল মূল্যায়নের কারণে পাসের হার অস্বাভাবিক বেশি ছিল। তবে স্বাভাবিক মূল্যায়নে ফিরতেই ফলাফলের এই ধস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, এ বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় এই পাসের হার কমেছে। তবে সার্বিক বিপর্যয় হলেও মেধা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভালো শিক্ষার্থীরা বরাবরই প্রত্যাশিত ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশেষ প্রতিনিধি।। 

















