
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার লংমার্চে অংশ নিয়ে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের তৎকালীন সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড শফিকুর রহমান চৌধুরী সুমন এবং মৌলভীবাজার জেলা বাসদ নেতা কমরেড আব্দুল গাফফার চৌধুরী সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি গ্রামে কমরেড সুমনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাকসুর সাবেক জিএস অধ্যক্ষ আজিজুল হাসান চৌধুরী শাহীন।

বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির আহবায়ক কমরেড নুরুজ্জামান তরফদারের পরিচালনায় ও উপস্থিতিতে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন— জেলা কমিটির সদস্য সচিব কমরেড শফিকুল ইসলাম, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড ফয়সল আহমেদ ও ডাক্তার সুনীল রায়, বাসদ বানিয়াচং উপজেলা কমিটির সাবেক আহবায়ক কমরেড লোকমান আহমেদ তালুকদার, সাবেক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা কমরেড লুৎফুর রহমান ছোটন, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন বাসদ নেতা কমরেড ফয়েজ আহমেদ এবং কমরেড নুর ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এসএসএ-এর হাতে তুলে দেওয়ার (১৯৮ বছরের জন্য লিজ) পায়তারা রুখে দিতে ‘তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’ ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ডাক দেয়। চার দিনব্যাপী ওই লংমার্চে দেশপ্রেমিক জনগণসহ বাসদ এবং বিভিন্ন বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।
লংমার্চ শেষে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সিলেট ফেরার উদ্দেশ্যে ট্রেনে রওয়ানা দিয়েছিলেন বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি গ্রামের সন্তান কমরেড শফিকুর রহমান চৌধুরী সুমন। একই সাথে অসুস্থতাজনিত কারণে মৌলভীবাজার জেলা বাসদ নেতা কমরেড আব্দুল গাফফার চৌধুরী সুইটও ওই ট্রেনেই ছিলেন। ২০০২ সালের ২৭ অক্টোবর আখাউড়ার আজমপুর নামক স্থানে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্য অনেকের সাথে তারা দুজনেই প্রাণ হারান।
২৪ বছর পরও এই দুই বাম নেতার আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের স্মৃতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন তাঁদের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও অনুসারীরা।
বানিয়াচং প্রতিনিধি। 


















