
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৩নং মুড়িয়াউক ইউনিয়নের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ছাত্রদল ও যুবদল থেকে উঠে আসা ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ তাজুল ইসলাম মোল্লা তাজ। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য, লাখাই উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং মুড়িয়াউক উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাজুল ইসলাম মোল্লা তাজ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজপথের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নানা গায়েবি মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করেও তিনি দলের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি মুড়িয়াউক ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও পাড়ায় সাধারণ ভোটার, সুশীল সমাজ এবং যুবসমাজের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি।
এলাকায় চুরি-ডাকাতি এবং ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ নানা অপকর্ম প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন এই সমাজসেবক।
উল্লেখ্য, মুড়িয়াউক, ধর্মপুর, মশাদিয়া, মৌবাড়ি, তেঘরিয়া, সাতাউক, লকনাউখ ও কাশিমপুর—এই ৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৩নং মুড়িয়াউক ইউনিয়ন।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলাম মোল্লা তাজ বলেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। পরিষদ থেকে গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে সমন্বয় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৯টি গ্রাম নিয়ে ইউনিয়নটি গঠিত হলেও এখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। অধিকাংশ কাঁচা রাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মা-বোনদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। আমি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব কাঁচা রাস্তা মেরামত ও টেকসই যোগাযোগের ব্যবস্থা করব।
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার প্রধান শক্তি। দল যদি আমার ত্যাগ ও অবদান মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেয়, তবে জনগণের বিপুল সমর্থনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগকালে ভোটার ও সুশীল সমাজের প্রত্যাশা বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষ এখন সচেতন। নির্বাচনের সময় ‘বসন্তের কোকিল’ হয়ে এসে নানা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া প্রার্থীদের চিনে ফেলেছেন ভোটাররা। সাধারণ ভোটাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা অতীতে দুঃসময়ে পাশে ছিল, বলপ্রয়োগ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, তাদেরই ব্যালটের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান, স্কুল ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবেন। অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে জবাবদিহিতামূলক একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করবেন।
বিল্লাল আহমেদ, লাখাই প্রতিনিধি: 


















