
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে একই এলাকার প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি-রড দিয়ে পিটিয়ে তাদের গুরুতর জখম করেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বাঁশবাড়ী গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আঃ মজিদ (৩০) বাদী হয়ে একই এলাকার মোঃ বাবলু মিয়া (৪৫), মোঃ উজ্জ্বল (২৬), মোছাঃ হোসেনেয়ারা বেগম (৪২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে বিবাদী করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী ও বিবাদীরা একই এলাকার বাসিন্দা হলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছিল। ঘটনার দিন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১নং বিবাদী মোঃ বাবলু মিয়ার হুকুমে হামলাকারীরা রাম দা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ মজিদের বসতবাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাদী প্রতিবাদ করলে ১নং বিবাদী রাম দা দিয়ে আঃ মজিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারেন। উক্ত কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার বাম হাতের দুটি আঙুলে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে ২নং বিবাদী লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা সরিয়ে নিলেও ডান গালে লেগে রক্তাক্ত জখম সৃষ্টি হয়। এরপর ৩নং বিবাদী বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আঃ মজিদ মাটিতে পড়ে গেলে সকল বিবাদী মিলে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফুলা জখম করে বলে বাদী থানায় লিখিত অভিযোগে এসব জানান।
আঃ মজিদের চিৎকারে ১নং সাক্ষী মোঃ শরিফ (২৬) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তাদের শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে “সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করার” হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















