সিলেট ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎গোয়াইনঘাটে ২৪ লাখ টাকার ফেন্সিডিলসহ নারী আটক‎ দলিলের মূল চৌহদ্দি ঠিক, বালামে বদল‎শান্তিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ‎ ডাক্তারও মানুষ: বাংলাদেশের বাস্তবতা জামালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা হবিগঞ্জের মাধবপুরে বুজুর্গের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারি, ‘আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি ভক্তদের জালিয়াতি করে প্রতিবন্ধী আদিবাসী নারীর জমি জবরদখলের অভিযোগ সিলেট সীমান্তে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য আটক ‎সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান ‎টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৪৬ ‎বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল বিএনপি; এমরান চৌধুরী‎ এমপি।

জালিয়াতি করে প্রতিবন্ধী আদিবাসী নারীর জমি জবরদখলের অভিযোগ


‎জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাগড়া গ্রামে এক অসহায় ও স্বামীহারা গারো আদিবাসী নারীর ৬ শতাংশ জমি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে কামরুজ্জামান কোমর নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্বামীহারা এই নারীর এমন অসহায় অবস্থায় জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাগড়া গ্রামের বাসিন্দা মিনিতা সাংমা (৫০) একজন স্বামীহারা, অসহায় ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী, যাঁর এক হাত বিকল। গারো সম্প্রদায়ের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক হওয়ায় তাঁর ছেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং তাঁর এক মেয়ে ও জামাতা ঢাকায় কাজ করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি মূলত নিজের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের টাকার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর নির্মিত একটি দোকানঘর প্রতিবেশী কামরুজ্জামান কোমরের কাছে ভাড়া দেন তিনি।

‎​অভিযোগ রয়েছে, প্রথম দুই বছর নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলেও পরবর্তী আট বছর ধরে কোনো ভাড়া দিচ্ছেন না কামরুজ্জামান। উল্টো প্রতিবন্ধী ও স্বামীহারা নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ওই জমি নিজের বলে দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এর আগে মিনিতা সাংমা ও তাঁর বোন নির্মলা সাংমার মধ্যে মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত জমি ভাগাভাগি ও দলিলের বিষয়ে কৌশলে মিনিতার স্বাক্ষর নিয়েছিলেন কামরুজ্জামান—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীর।

‎​ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশে কামরুজ্জামান কোমর দোষী সাব্যস্ত হলেও তিনি সালিশের রায় অমান্য করেন এবং উল্টো মিনিতা সাংমার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মাতাব্বররা জানান, সালিশে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত তা মেনে নেননি এবং উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

‎​এদিকে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, মিনিতার কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমি ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি এবং তারা আমার কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা পাবে।

‎​তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও জবরদখলের এমন ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীহারা ও প্রতিবন্ধী এই আদিবাসী নারী ও তাঁর পরিবার অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে জমি উদ্ধার ও সুবিচার কামনা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎গোয়াইনঘাটে ২৪ লাখ টাকার ফেন্সিডিলসহ নারী আটক‎

জালিয়াতি করে প্রতিবন্ধী আদিবাসী নারীর জমি জবরদখলের অভিযোগ

সময় ০৮:৪২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাগড়া গ্রামে এক অসহায় ও স্বামীহারা গারো আদিবাসী নারীর ৬ শতাংশ জমি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে কামরুজ্জামান কোমর নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্বামীহারা এই নারীর এমন অসহায় অবস্থায় জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাগড়া গ্রামের বাসিন্দা মিনিতা সাংমা (৫০) একজন স্বামীহারা, অসহায় ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী, যাঁর এক হাত বিকল। গারো সম্প্রদায়ের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক হওয়ায় তাঁর ছেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং তাঁর এক মেয়ে ও জামাতা ঢাকায় কাজ করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি মূলত নিজের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের টাকার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর নির্মিত একটি দোকানঘর প্রতিবেশী কামরুজ্জামান কোমরের কাছে ভাড়া দেন তিনি।

‎​অভিযোগ রয়েছে, প্রথম দুই বছর নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলেও পরবর্তী আট বছর ধরে কোনো ভাড়া দিচ্ছেন না কামরুজ্জামান। উল্টো প্রতিবন্ধী ও স্বামীহারা নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ওই জমি নিজের বলে দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এর আগে মিনিতা সাংমা ও তাঁর বোন নির্মলা সাংমার মধ্যে মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত জমি ভাগাভাগি ও দলিলের বিষয়ে কৌশলে মিনিতার স্বাক্ষর নিয়েছিলেন কামরুজ্জামান—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীর।

‎​ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশে কামরুজ্জামান কোমর দোষী সাব্যস্ত হলেও তিনি সালিশের রায় অমান্য করেন এবং উল্টো মিনিতা সাংমার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মাতাব্বররা জানান, সালিশে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত তা মেনে নেননি এবং উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

‎​এদিকে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, মিনিতার কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমি ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি এবং তারা আমার কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা পাবে।

‎​তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও জবরদখলের এমন ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীহারা ও প্রতিবন্ধী এই আদিবাসী নারী ও তাঁর পরিবার অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে জমি উদ্ধার ও সুবিচার কামনা করছেন।